ডেস্ক: এবার বাবা মুকুল রায়কে সরাসরি তোপ দাগলেন ছেলে শুভাংশু রায়৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচারে এখন জেলায় জেলায় বেকার যুবক-যুবতীদের স্মার্ট ফোন উরহার দেওয়ার করা বলছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়৷ জেলা পরিষদ বিজেপি জিততে পারলেই সেই জেলার আঠারো বছরের উপররের যুবক-যুবতীদের স্মার্ট দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুকুল রায়৷ আর এখানেই প্রবল আপত্তি জানিয়ে ছেলে শুভ্রাংশু রায় মুকুলের নাম না করে কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘স্মার্ট ফোন কিংবা কিছু কাগজ দেখিয়ে মানুষের মন জয় করা যায় না৷ কেউ কেউ স্মার্ট ফোনের কথা বলে ভোট চাইছে৷ তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না৷ এসব নাটক করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন জয় করা যায় কিন্তু বাংলার মানুষের মন জয় করা যাবে না এবং ভোটেও জেতা যাবে না৷’ এখানেই নয়, বীজপুরের তৃণমূল বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় আরও বলেন, ‘বাংলার মানুষ স্মার্ট ফোন আর ভুয়ো কাগজে বিশ্বাস করে করে৷ বাংলার মানুষ বিশ্বাস রাখে মমতা ব্যানার্জীর উন্নয়নে৷’

উল্লেখ্য, মুকুল রায়ের স্মার্ট ফোনের প্রলোভন দেখিয়ে জেলা পরিষদ দখলের ডাক নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস৷ যা নিয়ে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের জন্য জলপাইগুড়ির কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব৷ নির্বাচন কমিশনেরও দৃষ্টি আকষর্ণ করা হয়েছে৷ নির্বাচন কমিশন মুকুল রায়কে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে৷

এদিকে, শুভ্রাংশু রায় চুপচুপ থাকায় তার উপরও চাপ বাড়ছিল পার্টির পক্ষ থেকে৷ তৃণমূলের অন্দরে অনেকেই মনে করছে দল না ছাড়লেও তলে তলে বিজেপি ও বাবা মুকুল রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন বীজপুরের বিধায়ক৷ বিষয়টি শুভ্রাংশুর কানে এসেও পৌঁছায়, তাই তড়িঘড়ি সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন, তিনি বিজেপি নেতা মুকুল রায় নয়, আছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই৷ এই প্রথম নয়, মুকুল বিজেপিতে যোগদানের পর শুভ্রাংশুকে নিয়ে অনেক কানাঘুষো হয়েছে৷ তখনও শুভ্রাংশু জানিয়েছিলেন, দল আগামিদিনে টিকিট না দিলেও তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন-আছেন-থাকবেন৷ জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে দলনেত্রীর বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে থাকতে চান৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here