ডেস্কঃ আর কিছুক্ষণ, আর কিছুক্ষণেরই অপেক্ষা তারপরেই আসছে সাহায্য। কিন্তু সে অন্তহীন অপেক্ষার যেন শেষ নেই আর। এদিকে ক্রমশ বাড়ছে জলস্তর আর তেমনই পাল্লা দিয়ে কমে আসছে অক্সিজেন। ফুস্ফুসের যে দমে মাঠে চলে বল দখলের জোর লড়াই ভরসা এখন সেই ফুসফুসের দমটুকুই। তাদের দু’চোখ ভরা স্বপ্ন মেসি-নেইমার-রোনাল্ডো হওয়ার। কিন্তু না, আপাতত মেসি নেইমার রোনাল্ডোরা তাদের কাছে বহু দুরের কোন গ্রহের বিষয়। কারণ এই মুহুর্তে গহীন গভীর অন্ধকার গুহায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে অন্ততপক্ষে ১২ খুদে থাই ফুটবলার। এই মুহুর্তে সারা বিশ্ব মেতে রয়েছে ফুটবল উৎসবে, কিন্তু থাইল্যান্ড কিন্তু চিন্তিত তাঁদের এই খুদে ফুটবলারদের জীবন রক্ষায়।

ঘটনাটি ঘতে গত শনিবার। একটি নামজাদা আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, হঠাতই প্রবল বৃষ্টির জেরে ১১ থে ১৬ বছর বয়সী অন্তত পক্ষে ১২ জন কিশোর ফুটবলার একটি গুহায় আটকে পড়ে থাইল্যান্ডের চিয়াংরাই প্রদেরশে একটি গভীর অন্ধকার গুহায়। আর থাম লুয়াং নাং নন নামের এই গুহায় ঢুকে তাৎক্ষণিক আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান তাঁরা। আর এরই মধ্য সমগ্র এলাকায় শুরু হয়ে যায় ভয়াবহ বন্যা। আর এই বানের জলই একসময় হু হু করে ঢুকতে থাকে খুদে ফুটবলারদের আশ্রয় নেওয়া এই গুহাটিতেই। এই বানের জল ঢোকার ফলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় গুহার মুখ। তাই সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন এই গুহার ভিতরে আটকে পড়া কোচ সহ ওই ১২ খুদে ফুটবলারদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা প্রশাসন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর পক্ষে আদৌ সম্ভব হবে তো?

বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় ওয়াকিবহালমহলের মতে গুহার আভ্যন্তরীন তাপমাত্রা ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে, তাই তাঁদের আশঙ্কা খুদে ওই ফুটবলার এবং তাদের কোচের পোশাক যদি ভিজে থাকে তাহলে এই তাপমাত্রা সহ্য করা তাদের সম্ভব হবে না তাদের পক্ষে। এরই সাথে গুহায় আটকে পড়া ওই হতভাগ্য দলটির বাড়ির লোকেদের আশঙ্কা এবং চিন্তা, এক সপ্তাহ হয়ে গেল, কি খাচ্ছে ওরা, শ্বাসই বা নিচ্ছে কি করে? তবে শনিবার এই নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় প্রশাসনের তরফে শুরু হয় উদ্ধার কাজ। কিন্তু উদ্ধারকারীরা আপ্রাণ চেষ্টা করলেও বন্যার জল ফুলে ফেঁপে বিপুল পরিমান বেড়ে যাওয়ায় প্রায় কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না তাঁদের পক্ষেও। বন্যার জল প্রথম দিকেই এত বেড়ে যায় যে এক সময় থামিয়ে দিতে হয় উদ্ধার কাজ। এরই মাঝে পার হয়ে যায় বেশ ক’টি দিন। স্থানীয় সূত্রে খবর যে, গুহার বাইরে এবং ওপর থেকে কিছু জানা বা বোঝা না গেলেও এটুকু অনুমান করতে কারুরই অসুবিধা হচ্ছে না গুহার ভিতরে আটকে পড়া দলটির সমস্ত সদস্যদের অক্ষত এবং সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করতে পারার আশা বোধহয় করছেন না আর কেউই। মেসি-রোনাল্ডোদের নিয়ে বিশ্বজোড়া ফুটবল উৎসবের মাঝেই কি সলিল সমাধি ঘটে গেল ‘ভবিষ্যতের মেসি-রোনাল্ডোদের’..এ প্রশ্নই এখন ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে গোটা থাইল্যান্ডের আকাশে-বাতাসে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here