ডেস্ক: দীর্ঘ লড়াইয়ের পর একে একে ইরাকের বেশিরভাগ জায়গাকেই আইএস মুক্ত করেছে সরকার। গত কয়েক বছর ধরে যেভাবে বিশ্ববাসীর চোখের ঘুম ছুটিয়েছিল পৃথিবীর এই নিকৃষ্টতম জঙ্গি সংগঠন তার ঘা আজও দগদগে। ফলস্বরূপ ইরাকে বন্দি আইএস জঙ্গিদের ক্ষেত্রে দয়া দাক্ষিন্য দেখাতে ইচ্ছুক নয় সেখানকার সরকার। শুক্রবার রাতারাতি একযোগে ১২ আইএস জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল সেখানকার সরকার।

তবে রাতারাতি ইরাক সরকারের এহেন সিদ্ধান্তের পিছনে উঠে আসছে অন্য কারণও। বুধবার বাগদাদের উত্তরে জাতীয় সড়কের ধারে আইএস জঙ্গিদের হাতে অপহৃত ৮ জঙ্গির দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপরই ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দর আল–আবাদির বিরুদ্ধে সরব হন সাধারন মানুষ। বিরোধীরা আবাদির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে সরকার জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। যদিও ইরাক সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া নয়, জঙ্গিদের প্রতি কোনও রকম সহানুভূতি দেখাবে না প্রশাসন। এর ঠিক পরেই শুক্রবার ফাঁসিতে ঝোলানো হয় ১২ আইএস জঙ্গিকে।

উল্লেখ্য, এই ১২ জঙ্গির ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছিল বহু আগেই। ফলে তাদের ফাঁসিতে ঝোলাতে সরকারের তরফে কোনও বাধাই ছিল না। এছাড়াও ইরাকে দেশী ও বিদেশী মিলিয়ে ৩০০ জনেরও বেশি মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামী বন্দি রয়েছে ইরাকের জেলে। রয়েছে কয়েকশো যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এদের প্রত্যেকের সঙ্গে আইএস যোগ প্রমাণিত হয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ১২ জনের এই মৃত্যুদণ্ড ট্রেলার মাত্র। ইরাক থেকে আইএস জড় নির্মূল করতে কোনও কিছুর সঙ্গে আপস করবে না সেখানকার সরকার।