ডেস্ক: সব জল্পনার অবসান৷ পঞ্চায়েত ভোটের নতুন সূচি নিয়ে মতানৈক্যে পৌঁছালো রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকার৷ রফা সূত্র বেরোলো বটে৷ তবে এক্ষেত্রে রাজ্যের প্রস্তাবই মেনে নিতে বাধ্য হল কমিশন৷ ভোট গ্রহণ হবে ১৪ মে৷ গণনা হবে ১৬ মে৷ অর্থাৎ, রমজানের আগেই ভোট প্রক্রিয়া শেষ করতে চেয়েছিল রাজ্য সরকার৷ এবং সেই মর্মেই কমিশনকে লিখিত আকারে জানিয়ে ছিল রাজ্য সরকার৷ শেষ পর্যন্ত সেটাই মেনে নিল কমিশন৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে৷ তারপরই আনুষ্ঠানিকভাবে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সূচি জানাবেন নির্বাচন কমিশনার অমরেন্দ্র কুমার সিং৷

যদিও এর আগে আগে অবশ্য রাজ্য জানিয়েছিল ১৪ ও ১৬ মে ভোট গ্রহণ ও ১৯ মে গনণা হোক৷ পরে সেই জায়গা থেকে সরে এক দফায় ভোট চেয়েছিল রাজ্য৷ যদিও কমিশন চাইছে তিন দফায় ভোট৷ নিরাপত্তার কাজে যে সমস্ত বাহিনীকে ব্যবহার করা হবে, তাদের একদিনের মধ্যে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, তাই তিন দফায় ভোট চেয়েছিল কমিশন৷ তবে শেষ পর্যন্ত রাজ্যের প্রস্তাবেই সায় দিতে হল তাদের৷ তবে এই বিষয়ে বিরোধীরা ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে৷ বিশেষ করে নিরপত্তাজনিত বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা৷

উল্লেখ্য, এদিন সকাল থেকেই পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে তুমুল সংঘাত তৈরি হয়েছিল রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে৷ মূলত, রাজ্য সরকার ৪৮ হাজার সশস্ত্র পুলিশ নিয়ে যে তত্ত্ব দিয়েছিল সেখানেই আপত্তি ছিল কমিশনের৷ প্রায় ৫৮ হাজার বুথ হয়েছে গোটা রাজ্যে সেখানে ৪৮ হাজার পুলিশ দিয়ে কীভাবে ভোট হবে প্রশ্ন তুলেছিল কমিশন? রাজ্য সরকার জানিয়েছে, স্পর্শকাতর বুথ গুলিতে সশস্ত্রবাহিনী দিতে কোনও সমস্যা হবে না তাদের৷ প্রয়োজনে রাজ্য পুলিশের সঙ্গে কলকাতা পুলিশকেও ব্যবহারের কথা জানিয়েছে নবান্ন৷ কমিশন অবশ্য চাইছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হোক৷ রাজ্য কমিশনের সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে৷ এবং সেটা লিখিত আকারে দেওয়ার পরই রাজ্যের প্রস্তাব মেনে নেয় কমিশন৷

এর আগে এদিন দুপুর পর্যন্ত একপ্রস্ত দড়ি টানাটানি চলে কমিশন ও রাজ্যের মধ্যে৷ হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে নতুন করে মনোনয়নের দিন ধার্য হওয়ার পর, স্কুনিটি পর্যন্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু নতুন নির্ঘন্ট নিয়ে মনানৈক্যে পৌঁছতে পারছে না রাজ্য ও কমিশন৷ তাই আর বিলম্ব নয়, ভোটের সূচি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চরম সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল রাজ্য সরকার৷ তার মধ্যে কমিশন যদি পঞ্চায়েত ভোটের নতুন সূচি ঘোষণা না করে, তাহলে রাজ্য সরকার একতরফা বিজ্ঞপ্তি জারি করবে৷ কারণ, রাজ্য সরকার নিজেদের প্রস্তাবিত সূচি নিয়ে তাদের সিদ্ধান্তে অনড়৷

নবান্ন সূত্রে খবর ছিল, আলোচনায় বসার ক্ষেত্রে কমিশনের ডাকের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত অপেক্ষা করবে রাজ্য সরকার৷ যদি কমিশন বৈঠকে না বসে, তাহলে রাজ্য তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেবে কমিশনকে৷ ফ্যাক্স অথবা মেইল করে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হবে কমিশনকে৷ এবং একতরফা ভাবে পঞ্চায়েত ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করবে রাজ্য সরকার৷

এরপরই নড়েচড়ে বসে কমিশন৷ কার্যত রাজ্যের চাপের সামনে নতি স্বীকার করেন অমরেন্দ্র সিংরা৷ রমজান মাসে যাতে কোনও সমস্যা না হয় তার জন্য এক দফাতেই ভোটের প্রস্তাব দিয়েছিল রাজ্য সরকার৷ এবং সেই শর্তই শেষ পর্যন্ত মানতে বাধ্য হল কমিশন৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here