kolkata bengali news

ডেস্ক: ভোটের মরসুমে কৃষকের মনজয়ে উদগ্রীব সকলেই। শাসক বিজেপির পর এবার দলীয় ইস্তেহার কৃষকদের ত্রাতার ভূমিকায় কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। দেশের কৃষকদের জন্য পৃথক বাজেট, ১০০ দিনের কাজের জায়গায় ১৫০ দিনের কাজের গ্যারান্টি এবং কৃষিঋণ মকুবের মতো ঘোষণা ঠাঁই পেয়েছে এই ঘোষণাপত্রে।

কেন্দ্রের অন্তিম বাজেটে কৃষকদের জন্য কিষাণ সম্মান নিধি যোজনার ঘোষণা ছিল। সেই যোজনায় দেশের ক্ষুদ্র কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। কয়েক কিস্তিতে ২ হেক্টর পর্যন্ত জমির মালিক ছোট ও প্রান্তিক কৃষকের অ্যাকাউন্টে বছরে ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। তার প্রথম কিস্তির টাকা অনেক কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। চলতি সপ্তাহেই দ্বিতীয় কিস্তির টাকাও চলে আসার কথা অনেক কৃষকের অ্যাকাউন্টে। ঠিক সেই মুহূর্তে রাহুল গান্ধির কৃষকদরদী ইশতেহার প্রকাশ ভোটের মুখে কংগ্রেসকে অনেকটা মাইলেজ দেবে বলে মনে করছেন তথ্যাভিজ্ঞ মহল।

 

কৃষকের জন্য আলাদা বাজেট ভারতের মতো কৃষিপ্রধান দেশের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ঘোষণা বলে দাবি কংগ্রেস নেতৃত্বের। সাধারণত কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট ঘোষণায় কৃষকদের জন্য বরাদ্দবৃদ্ধির ঘোষণা করে সব শাসকদল। তাতেও এদেশের কোটি কোটি কৃষকের আর্থ-সামাজিক উন্নতির ছিটেফোঁটাও হয় না বলে অভিযোগ। দেশের নানা প্রান্তে বছরভর কৃষকদের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে চলে। নিজেদের অধিকার আদায়ে কৃষককে পথে নামতে হয়। পেট চালাতে কৃষিজমি ছেড়ে কৃষককে অন্য কোনও কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে হয়। কৃষকের এমনই দুর্দশার কথা দেখেশুনে প্রায় অভ্যস্ত দেশবাসী। বিজেপি জমানায় কৃষকের এই সংকট তীব্রতর হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। তাই কৃষকদের জন্য পৃথক বাজেট ঘোষণা করে লোকসভা ভোটের মুখে নিজের রাজনৈতিক পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এমজিএনরেগা প্রকল্পে ১০০ দিনের কাজের জায়গায় ১৫০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে কংগ্রেসের ইস্তেহারে। এই ঘোষণাও রাহুলের বড় বাজি বলে মনে করা হচ্ছে। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মত, ১০০ দিনের কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে নানা দুর্নীতির অভিযোগ সত্ত্বেও এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন দেশের একটা বড় অংশের শ্রমজীবী মানুষ। তা বাড়িয়ে দেড়শো দিনের কাজের গ্যারান্টি ঘোষণার মধ্যে দিয়ে রাহুল আরেকটি বাজি মেরেছেন। একই সঙ্গে কৃষিঋণ মেটাতে ব্যর্থ কৃষকদের জন্য ফৌজদারি মামলায় বিচার হবে না। পরিবর্তে কৃষকের জন্য দেওয়ানি মামলা আনা যেতে পারে। এই আইনেও বদল আনতে চেয়ে লোকসভা ভোটে রাহুল আসলে কৃষকদের প্রতি নরম মনোভাব দেখানোর চেষ্টা করেছেন।

রাহুল বলেছেন, আমাদের মতে, দেশের কৃষকদের জন্য ভিন্ন বাজেট হওয়া জরুরি। এতে করে কৃষকরা জানতে পারবেন, তাদের নিয়ে সরকার কতটা কী ভাবছে, তাদের জন্য বাজেটে কতটা কী করা হচ্ছে এবং তাদের জন্য ন্যূনতম সহায়কমূল্য কী দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি শিবিরকে কটাক্ষ করে রাহুল আরও বলেছেন, নীরব মোদী বা বিজয় মালিয়ার মতো লোকজন দেশের টাকা নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন। অন্যদিকে দেশের কৃষকরা যদি ব্যাঙ্কের টাকা ফেরত দিতে না পারেন, তাদের জেলে ঢোকানো হয়ে থাকে। তাই আমরা ভেবেছি, যদি কৃষক ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া কৃষিঋণ চোকাতে না পারে, তাকে ফৌজদারি মামলায় আদালতের কাঠগড়ায় না তুলে দেওয়ানি মামলায় বিচার করা হবে। এ এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্দেহ নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here