bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ঘরোয়া কোন্দলেই এবার জর্জরিত উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সরকারের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ ঘোষণা করে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় ধর্নায় বসলেন ১৫০ জন বিধায়ক। যাদের মধ্যে আবার ২০ জন বিজেপিরই বিধায়ক। মঙ্গলবার থেকে বিধানসভায় চলা এহেন ধর্নায় রীতিমতো চাপে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

সমস্যার শুরু বিজেপি বিধায়ক নন্দ কিশোর গুর্জারকে নিয়ে। সপ্তাহখানেক আগে গাজিয়াবাদে পুলিশের দ্বারা হেনস্থার শিকার হন ওই বিধায়ক। শুধু তাই নয়, দলের হাতেই তিনি খুন হয়ে যেতে পারেন এমন আশঙ্কার কথা মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর পর মঙ্গলবার বিধানসভাতে সেই বিষয়ে বক্তব্য রাখতে ওঠেন তিনি। কিন্তু তাঁর কথা না শুনেই কড়া ভাষায় বিধায়ক তাঁকে নিজের চেয়ারে বসতে বলেন। এরপরই ক্ষোভ উগরে বিধানসভার বাইরে ধর্নায় বসেন ওই বিধায়ক। সেদিনই তাঁর সঙ্গে ধর্নামঞ্চে যোগ দেন ২০ জন বিজেপি বিধায়ক। ধীরে ধীরে বিরোধিরাও সামিল হয় ওই ধর্নায়। বর্তমানে ওই ধর্নামঞ্চের পাশে দাঁড়িয়েছেন উত্তরপ্রদেশের ১৭০ জন বিধায়ক। যেখান থেকে স্পিকার ও যোগী সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলা হয় বিধায়ক একতা জিন্দাবাদ।

বিধানসভার এহেন পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামেন উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী দীনেশ শর্মা। যদিও তাঁকে বিশেষ পাত্তা দেননি বিধায়করা। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে এখানে এসে কথা বলতে হবে তারপরই আন্দোলন থেকে সরবেন তারা। কিন্তু ঝাড়খণ্ড বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে বর্তমানে সেখানে প্রচারে গিয়েছেন যোগী। ফলে বিপদ বেড়েছে আরও। গোটা ঘটনার জেরে কার্যত শিকেয় উঠেছে বিধানসভার কাজকর্ম।

উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন আগেই উত্তরপ্রদেশ জুড়ে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন গাজিয়াবাদের বিজেপি বিধায়ক নন্দকিশোর গুর্জার। খুন হয়ে যেতে পারেন এই আশঙ্কায় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে চিঠি লিখে তিনি বলেন, ‘আপনার কাছে আমার অনুরোধ, এমন কোনও মামলায় আমাকে জেলে ঢোকান যার অপরাধ স্বরূপ সারা জীবনের জন্য আমাকে জেলে বন্দি থাকতে হয়। কারণ, আমি মানুষের সেবা করার শপথ নিয়ে বিধায়ক হয়েছি। আমাকে মাধ্যম করে তারা যেন আমার বিধানসভাকেন্দ্র লুনি ও সেখানকার মানুষকে লুঠ করতে না পারে। আমি জেলে ঢুকলে অন্তত প্রাণে বেঁচে যাব আমি। কারণ কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা আমাকে খুনের ষড়যন্ত্র করছে।’ এই ঘটনার জন্য দলের জেলা সভাপতি সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি। তা নিয়ে অবশ্য খুব একটা মাথা ঘামাননি যোগী আদিত্যনাথ। পাল্টা দলের মধ্যেই গুরুত্ব কমানো হয় ওই বিধায়কের। এরইমাঝে একদিন পুলিশি হেনস্থার মুখে পড়েন তিনি। যারই ফলস্বরূপ এবার ধর্নায় বসলেন গুর্জার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here