ডেস্ক: মাদক পাচার করতে গিয়ে কলকাতা স্টেশন থেকে রেলপুলিশ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করল পাঁচ চিনা নাগরিককে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৯৭ কেজি মাদক ট্যাবলেট। যার আনুমানিক মূল্য বাজারে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ধৃতদের কাছে পাঁচটি আইফোন, একাধিক ব্যাঙ্কের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ও চিনা সিমকার্ডও পাওয়া গিয়েছে। উদ্ধার হয়েছে দু’টি ভারতীয় সিমকার্ডও।

সূত্রের খবর, শুক্রবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ কলকাতা স্টেশন চত্বরেই রুটিনমাফিক টহলদারি করছিলেন রেলপুলিশের জওয়ানরা। সেই সময়ে একটি দাঁড়িয়ে থাকা বাসের পিছনে কয়েকজনকে বসে থাকতে দেখা যায়। ওই পাঁচ জনকে বসা অবস্থায় সন্দেহজনক ভাবে একটি ব্যাগ থেকে অন্য ব্যাগে কিছু ভরতে দেখা যায়। তাঁদের ওপর পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ ব্যাগের মধ্যে কী আছে জানতে চায়। এরপর তল্লাশি শুরু করতেই ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় কিছু ট্যাবলেট। পুলিশের এগুলি দেখেই মাদক বলে সন্দেহ হয়। এরপরেই তাদেরকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় দমদম জিআরপি থানায়। তল্লাশির সময়ে আটক পাঁচ জনের কাছ থেকে পাওয়া যায় পাসপোর্ট। সেখান থেকেই পুলিশ জানতে পারে যে তারা প্রত্যেকেই চিনা নাগরিক। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অ্যামস্টেমিনাইন নামক এই মাদকটি চিনে খুবই ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই শহরে এই ধরনের মাদকের এই প্রথম খোঁজ মিলল। অন্যদিকে, মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ভবানীপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে এক যুবককে। জানা গেছে, ধৃতের নাম মুব্বাসি আন্নান। কলকাতার বিভিন্ন কলেজের ছাত্র ও ধনী যুবকদের মধ্যে মাদক সরবরাহ করত মুব্বাসি। মাদক সরবরাহ করা হত এলিট পার্টিগুলিতেও। এই মাদক যোগের প্রাথমিক তদন্তের ভার সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বুধবারই শহরে হাইপ্রোফাইল মাদকচক্রের পর্দাফাঁস করে কলকাতা পুলিস। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সৌমিক মুখার্জি নামে এক ম্যানেজমেন্ট পড়ুয়াকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিসের গোয়েন্দা শাখা। সৌমিককে জেরা করে আরও দুই ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সম্প্রতি খাস শহরের বুকে বাড়তে থাকা এই মাদকচক্রকারির দল কপালে ভাঁজ ফেলেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের। যুবসমাজের মধ্যে এই মাদকতার নেশা ধীরে ধীরে ছেয়ে যাচ্ছে। ফলে যথেষ্ট উদ্বিগ্নে আছেন বাবা মায়েরাও।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here