শ্বশুরবাড়িতে আগুন লাগালো জামাই, অগ্নিদগ্ধ দুই শিশু সহ ৩জন! গ্রেফতার ৩

0
8745
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, রায়গঞ্জ: রাতের অন্ধকারে এসে শ্বশুরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠলো গুনধর জামাইয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার জেরে দুই শিশু সহ ৩জন গুরুতর ভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়। ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ সদর মহকুমার কালিয়াগঞ্জ থানার রসিদপুর এলাকায়। পুলিশের তৎপরতায় একটি অ্যাম্বুলেন্স সহ গুনধর জামাই ও তার দুই সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার তিনজকে রায়গঞ্জ জেলা আদালতে পাঠানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। গুনধর জামাইয়ের নাম ভগীরথ মহলদার, বাড়ি করনদিঘি থানার মগনাভিটা এলাকায়। তার দুই স্নগীদের মধ্যে রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স চালক আনন্দ সিনয়, যার বাড়ি করনদিঘি থানার সিংগারদহ গ্রামে এবং অপরজন হল অমরজিত মাহাতো। তার বাড়ি বিহারের কাটিহার জেলার বলরামপুর এলাকায়। কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে।

জানা গিয়েছে, করনদিঘি থানার বাসিন্দা ভগীরথ মহলদারের সঙ্গে ১৪-১৫ বছর আগে বিয়ে হয় কালিয়াগঞ্জের বাসিন্দা স্বপ্না মহলদারের। তাদের তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে। অভিযোগ বিয়ের কয়েক বছর পর থেকে স্ত্রীর ওপরে বিভিন্ন কারণে অত্যাচার করত ভগীরথ। মাঝে মীমাংসার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হলেও পরে আবার অত্যাচার শুরু হয়। গত মঙ্গলবার স্বপ্না মহলদার তার ছোট মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে আসেন। অভিযোগ, তার পরেই ফোনে শ্বশুবাড়ির লোকেদের হুমকি দেয় ভগীরথ। সে বলে যে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দিলে সে শ্বশুরবাড়ির সবাইকে প্রানে মেরে দেবে। এরপরই শুক্রবার গভীর রাতে ভগীরথ একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে আসে। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা রাতে যখন ঘুমিয়ে ছিল সেই সময় বাইরে থেকে দরজা আটকে দিয়ে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় সে।

বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। এলাকাবাসিদের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। কিন্তু আগুনের জেরে তিনজন অগ্নিদগ্ধ হয়। তাদেরকে প্রথমে কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাদেরকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন স্বপ্না মহলদারের দাদা জীবন মহলদার ও মামার বাড়িতে ঘুরতে আসা দুই শিশু কৃষ্ণা মল্লিক ও ময়ঙ্ক মল্লিক।

ঘটনার খবর দেওয়া হয় কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশকে। কালিয়াগঞ্জ পুলিশের তৎপরতায় এবং হেমতাবাদ থানার পুলিশের সহযোগিতায় হেমতাবাদ থানার ঠাকুর বাড়ি এলাকা থেকে শুক্রবার রাতেই অ্যাম্বুলেন্স সহ তিন জনকে আটক করে হেমতাবাদ থানার পুলিশ। রাতেই পুলিশ ধৃতদের কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ শনিবার সকালে ধৃত তিনজনকে রায়গঞ্জ জেলা আদালতে পাঠায় এবং ঘটনার পূর্নাঙ্গ তদন্তে নামে। বাড়ির লোকেরা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here