‘বাংলায় দু’টি ডিটেনশন শিবির তৈরি হলেও এনআরসির সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই‘

0
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: অসমের ছোঁয়াছ লেগেছে কি পড়শি রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে? না কি মুখে যাই বলুন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে বিজেপির সুরে সুর মিলিয়ে অসমের মতোই স্বাধীন ভারতে এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গেও জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ(এনারসি) চালু হবে? হবে ডি ভোটার৷ তাদের গারদে বরার জন্য কি নতুন করে বন্দি শিবির হচ্ছে? এই বিষয়ে অবশ্য এখনও সরকার তাদের পুরানো অবস্থানে অনড় আছে৷ রাজ্য কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের আশ্বাস, এই বন্দি শিবরের সঙ্গে এনআরসির কোনও সম্পর্ক নেই৷ তবে তাঁর আশ্বাসে যথেষ্ট সন্দিহান বাংলাপক্ষ, নো এনআরসি সহ নাগরিকপঞ্জি বিরোধী সংগঠনগুলি৷ বাংলাপক্ষর নেতা কৌশিক মাইতি অবশ্য এই বিষয়ে যথেষ্ট সাবধানী৷ তাঁর কথায়, ‘বিষয়টা এখনও আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়৷ আমরা এই বিষয়ে নজর রাখছি৷’

kolkata bengali news
উজ্জ্বল বিশ্বাস, কারামন্ত্রী

সরকারের বক্তব্য, ফৌজদারি অপরাধে ধৃত বিদেশিদের জন্য পশ্চিমবঙ্গে দু’টি ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে।এর মধ্যে একটি ক্যাম্প তৈরি হবে নিউ টাউনে এবং অপরটি উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয়।যদিও এর সঙ্গে জাতীয় নাগরিকপঞ্জিকরণের(এনআরসি) কোনও যোগ নেই বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী উজ্বল বিশ্বাস। ফৌজদারি অপরাধে ধৃত বিদেশিদের জন্য পশ্চিমবঙ্গে দু’টি ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি ক্যাম্প তৈরি হবে নিউ টাউনে এবং অপরটি উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয়। সংবাদসংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনই জানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী উজ্বল বিশ্বাস।তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রথম ডিটেনশন সেন্টার তৈরির জন্য ইতোমধ্যে নিউ টাউনে জমি চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। আর দ্বিতীয় সেন্টারটি তৈরির জন্য বনগাঁয় জমি চিহ্নিত করার কাজ চলছে। তবে সেটি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত কোনও সরকারি ভবনকে অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টারের রূপ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতার সাফ কথা, আতঙ্কে নয়, নিশ্চিন্তে থাকুন! এই রাজ্যে এনআরসি হবে না৷

গোটা প্রক্রিয়া সঙ্গে জাতীয় নাগরিকপঞ্জিকরণের (এনআরসি) কোনও যোগ নেই বলে এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাজ্যের কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসও প্রথম থেকে এর বিরোধিতা করে আসছে। শুধু তাই নয়, বাংলায় কোনও এনআরসি হবে না বলে এর আগে একাধিকবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ন্দ্যোপাধ্যায়।ডিটেনশন সেন্টার তৈরির প্রয়োজনিয়তা প্রসঙ্গে রাজ্যের কারামন্ত্রীর কথায়, উজ্বল বিশ্বাস জানিয়েছেন, ‘স্থানীয় বন্দিদের সঙ্গে বিচারাধীন এবং সাজাপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের একসঙ্গে রাখা যাবে না বলে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। সেই নির্দেশ অনুসারে ডিটেনশন ক্যাম্প দুটি তৈরি করা হচ্ছে।’ পাশপাশি তাঁর সাফ দাবি, ‘এর সঙ্গে এনআরসির কোনও যোগ নেই। দয়া করে ডিটেনশন সেন্টার তৈরির বিষয়টির সঙ্গে নাগরিকপঞ্জিকরণকে জড়াবেন না।’ এখন স্থানীয় বন্দি এবং বিদেশি বন্দিদের একই সঙ্গে রাখা হয়। কারা দফতর সূত্রে খবর, ফৌজদারি অপরাধে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলে বন্দি বিদেশি নাগরিকদের অধিকাংশই আফ্রিকার বাসিন্দা।এই প্রসঙ্গে ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি নির্দেশিকার কথাও উল্লেখ করেছে রাজ্যের কারামন্ত্রী। এই নির্দেশিকায় অনুপ্রবেশকারী এবং সাজার মেয়াদ শেষের পরে বিদেশের নাগরিকদের ফেরৎ পাঠানোর আগে রাখার জন্য প্রতিটি রাজ্যে অন্তত একটি ডিটেনশন সেন্টার তৈরির কথা বলা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here