মহানগর ওয়েবডেস্ক: দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংহতির স্বার্থে কাশ্মীরে ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। অনলাইন শিক্ষাদান ও গণস্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য কম গতির ইন্টারনেট পরিষেবা যথেষ্ট বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জিকে রেড্ডি সাংসদের করা প্রশ্নের লিখিত উত্তরে জানান, ‘’কাশ্মীরে স্থায়ী লাইনে ইন্টারনেটের গতিতে কোনও নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি এবং ২ জি গতির মোবাইল ডেটা পরিষেবা গত ২৪ জানুয়ারি থেকেই চালু রয়েছে। মার্চ মাস থেকে সোশ্যাল মিডিয়া সাইটের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণও উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।‘’

এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও জানান, ‘’২ জি ইন্টারনেট স্পিড কোভিড নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে কোনও বাধা সৃষ্টি করে না এমনকি স্বাস্থ্যকর্মী বা জনসাধারণের মধ্যে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রচার চালাতেও কোনও অসুবিধে হয় না। অনলাইন শিক্ষার জন্য সরকারের যে সমস্ত অ্যাপ বা ওয়েবসাইট রয়েছে সে সবই ২ জি গতির ইন্টারনেট পরিষেবা দিয়ে ব্যবহার করা যায় এবং এই গতির পরিষেবার সাহায্যে কোনও বই বা পড়াশুনোর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ডাউনলোড করা যায়।‘’

৪ জি গতির পরিষেবা ইতিমধ্যেই গান্দেরবল এবং উধমপুর জেলায় চালু করা হয়েছে বলে রেড্ডি সংসদে বলেন। গত বছর ৩৭০ ধারা বাতিলের পর জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল ঘোষণা করার পর এই দুই জেলাতেও ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যহত হয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীরের অধিকাংশ জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্য জঙ্গিদের মিথ্যে ও ভুয়ো প্রচারকে আটকানো বলে জানান হয় প্রশাসনের তরফে। সমালোচকদের অবশ্য অভিমত, এর ফলে কয়েক হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে এবং অর্থনীতিতেও তার বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

আর একটি প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জানান, জম্মু ও কাশ্মীরের কোনও রাজনৈতিক নেতা গৃহবন্দি নেই যদিও ২২৩ জনকে নিরাপত্তার কারণে আটক রাখা হয়েছে। ‘’এই মুহূর্তে চলাফেরার ক্ষেত্রে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে কোনও ব্যক্তিকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়নি’’ বলে মন্ত্রী জানান বিশেষ কিছু অঞ্চলে নিরাপত্তা বলয়ে থাকা ব্যক্তিদের চলাফেরার বিষয়ে আগাম সংবাদ দেওয়া তাদের নিরাপত্তার কারণেই বাধ্যতামূলক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here