ডেস্ক: রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের কর্ণধার অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এক মামলায় আদালত নির্দেশ দিয়েছিল একরকম। তবে সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে সেই রায় উল্টেপাল্টে হয়ে গেল অন্যকিছু। শীর্ষ আদালতে ঘটা এহেন চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে অভিযোগের আঙুল উঠেছে সুপ্রিমকোর্টের সরকারি দুই রেজিস্টারের বিরুদ্ধে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ার পর ওই দুই জনকেই বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ।

জানা গিয়েছে, একটি বিষয়ের প্রেক্ষিতে অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন সুইডিশ টেলিকম সংস্থা এরিকসন। সেই মামলায় বিচারপতি ফলি নরিম্যান নির্দেশ দেন ৭ জানুয়ারি আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হতে হবে আম্বানিকে। কিন্তু আদালতের নির্দেশ যখন ওয়েবসাইটে আসে তখন দেখা যায় গোটা বিষয়টি গিয়েছে উল্টে। যেখানে আদালত জানিয়ে দিয়েছে ৭ জানুয়ারি অনিল আম্বানিকে উপস্থিত হতে হবে সেখানে সেখানে ওয়েবসাইটে লেখা, ‘অবমাননাকারী হিসাবে অভিযুক্তকে পরবর্তী শুনানিতে স্বশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।’ ওয়েবসাইটে দেওয়া এহেন নির্দেশে রীতিমতো তাজ্জব বনে যান এরিকসনের আইনজীবীরা। বিষয়টি যায় বিচারপতি নরিম্যানের কাছেও। এরপর সঙ্গে সঙ্গে ওয়েবসাইটের নির্দেশ বদল করে আসল তথ্য প্রকাশ করা হয়। জানিয়ে দেওয়া হয় ১০ তারিখ আম্বানিকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য। পাশাপাশি, ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের তথ্য বিকৃত করার অভিযোগে বরখাস্ত করা হয় ওই দুই রেজিস্টারকে।

উল্লেখ্য, আম্বানির রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের বিরুদ্ধে বহুদিন আগেই অভিযোগ দায়ের করেছিল সুইডিশ কোম্পানি এরিকসন। অভিযোগ ছিল, তাদের প্রাপ্য ৫৫০ কোটি টাকা দিচ্ছে না আম্বানির সংস্থা। সেই মামলার প্রেক্ষিতে টাকা দিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দিয়ে দেয় আদালত। কিন্তু সে নির্দেশকে অমান্য করেন আম্বানি। এরপর ফের এরিকসন আদালতের দ্বারস্থ হলে ৭ জানুয়ারি আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয় আম্বানিকে। তবে সে তথ্য ওয়েব সাইটে ওয়েবসাইটে দেওয়ার সময় তথ্য বিকৃত করার অভিযোগ ওঠে ওই দুই রেজিস্টারের বিরুদ্ধে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here