নিজস্ব প্রতিবেদক, চুঁচূড়া: চুঁচূড়া বালিকা বাণীমন্দির স্কুলের মিড-ডে মিলে দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরদিনই সাসপেন্ড করা হল দুই শিক্ষিকাকে। খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করে হুগলির জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও বলেন, ‘চুঁচূড়া বালিকা বাণীমন্দির স্কুলের প্রাক্তন টিচার-ইন-চার্জ শমিতা কুশারী এবং বর্তমান টিচার-ইন-চার্জ পূর্বা মুখার্জীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এঁরাই মিড-ডে মিলের টাকা আত্মসাত্ করে হিসাবে গরমিল করেছে বলে অভিযোগ।’ অন্যদিকে, দুর্নীতি ফাঁস হওয়ার পরই ছাত্রীদের পাতে পড়ল ডিম। মিড-ডে মিলের নিয়ম মেনে মঙ্গলবার সকালে স্কুলের ছাত্রীদের খাবারে সবজি-ভাতের সঙ্গে একটি করে সেদ্ধ ডিম দেওয়া হয়েছে।

চুঁচুড়া বালিকা বাণীমন্দির স্কুলে মিড-ডে মিলের দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে হুগলি জেলা প্রশাসন। ওই স্কুলের মিড-ডে মিল নিয়ে তো তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জেলায় যে হাজার খানেক স্কুলে মিড-ডে মিল চলে, সেই সমস্ত স্কুলের মিড-ডে মিল পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে বলেও জানিয়েছেন জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও। এদিকে, বাণীমন্দির স্কুলের মিড-ডে মিলের দুর্নীতির নিন্দায় সরব হয়েছেন বাউল সম্প্রদায়ও। এক বাউল এদিন সকালে বালিকা বাণীমন্দির স্কুলের সামনে গিয়ে মিড-ডে মিলের দুর্নীতি নিয়ে গান বেধে গাইতে শুরু করেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ অবশ্য ব্যাপারটি মেনে নেননি। বাণীমন্দির স্কুলেরই এক শিক্ষিকা ওই বাউলকে চরম হেনস্থা করে সেখান থেকে তাঁকে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ।

উল্লেখ্য, সোমবার হঠাত্ই চুঁচূড়ার বালিকা বাণীমন্দির স্কুলে হানা দিয়ে সেখানকার মিড-ডে মিলে দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ্যে আনেন হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। স্কুলে গিয়ে তিনি দেখেন, মিড-ডে মিলে ছাত্রছাত্রীদের দেওয়া হয়েছে নুন-ভাত। এর কারণ জানতে চাইলে স্কুলের শিক্ষিকারা জানান, গত কয়েকমাস ধরেই স্কুলের মিড-ডে মিলের এই বেহাল দশা। ছাত্রছাত্রীরাও জানায়, রোজই হয় নুন-ভাত নয়তো ফ্যানা-ভাত জোটে। কখনও কখনও নুনভাতের সঙ্গে পাতে পড়ে পাঁপড়ভাজা বা একটু আলুসেদ্ধ। মিড-ডে মিলের এই বেহাল অবস্থার কথা শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সাংসদ। ছাত্রছাত্রীদের এরকম খেতে দেওয়া হলেও খরচ দেখানোর সময় সমস্ত হিসেব একেবারে ঠিকঠাক দেওয়া হয় বলেই জানান তিনি। এরপর স্কুলের শিক্ষিকাদের পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘মিড-ডে মিলের জন্য ২৫ হাজার টাকায় ৫ হাজার ডিম কেনা হয়েছে। কিন্তু ছাত্রীরা ডিম পাচ্ছে না। ২৫৬ বস্তা চালেরও কোনও হদিশ নেই।’ গোটাটাই ‘অন্তর্ঘাত’ দাবি জানিয়ে অভিযুক্তদের হুঁশিয়ারিও দেন বিজেপি সাংসদ। বলেন, ‘ছাত্রীদের মুখের খাবার যারা কেড়ে নিয়েছে, তাদের রেয়াত করা হবে না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here