ডেস্ক: প্রাথমিক টেটে মামলার জট কিছুতেই খুলছে না৷ একের পর এক মামলায় আদালত কক্ষে মুখ থুবড়ে পড়ছে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ৷ ২০১২ প্রাথমিক টেটের প্রশ্নপত্র নিয়ে মামলার নিস্পত্তি হয়েছে৷ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ওই মামলার রায়ে পর্ষদকে নির্দেশ দিয়েছে ১৯ জন মামলাকারীকে ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার৷ সেখানে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে গেলেও এবার ২০১৪ সালের প্রশ্নপত্র বিভ্রাট নিয়ে হাইকোর্টে ফের ফাঁপড়ে পড়েছে পর্ষদ৷ প্রাথমিক টেট ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা৷ জটিলতা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের টেট হলেও পরীক্ষা হয়েছিল ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে। NCTE গাইড লাইন মেনে সেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি হয়েছিল৷ কিন্তু ১৫০টি প্রশ্নের মধ্যে ১১টি প্রশ্নকে নিয়ে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে৷ দুই মামলাকারী প্রতিভা মণ্ডল ও গোবিন্দ বৈরাগীর অভিযোগকে মান্যতা দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। ওই ১১টি প্রশ্নে পর্ষদের প্রশ্ন ও উত্তরের সঙ্গে ফারাক দেখা যাচ্ছে৷ সেই বিভ্রান্তিকর প্রশ্নের উত্তর পেতেই বিশেষ কমিটি গড়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত৷

এই মামলার বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় টেট শুনানিতে একটি কমিটি গড়ে সমস্যার সমাধানের নির্দেশ দেন। বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় বিশ্বভারতীর উপাচার্য সবুজকলি সেনেক নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গড়ে দেন। সেই কমিটিকে দায়িত্ব দেন, কোনটা সঠিক উত্তর, কোনটি ভুল, তা মুখবন্ধ খামে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হাইকোর্টে তা পেশ করতে হবে। ৫০০ পরীক্ষার্থী হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে। সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি জানান, মালকারীদের উত্তর সঠিক হলে তাঁদের নম্বর যদি বাড়ে, সেক্ষেত্রে মেধা তালিকায় তাঁদের জায়গা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে আদালত।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের টেটে রেকর্ড ১ লক্ষ ২৫ হাজার প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল৷ তাঁদের মধ্যে থেকে মাধার ভিত্তিতে প্রায় ৪২ হাজার প্রার্থীকে শিখ পদে নিয়োগ করা হয়৷ সেখানেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল পর্ষদ ও শিক্ষা দফতরের বিরুদ্ধে৷ যা নিয়ে হাইকোর্টে এখনও প্রচুর মামলা ঝুলছে৷ এবার কি হয়, সেটাই দেখার!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here