নিজস্ব প্রতিবেদক, মেদিনীপুর: ফের রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গোয়ালতোড়। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ গোয়ালতোড়ের আমলাশুলি এলাকায় তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ উত্তেজনা ছড়ালো এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন জখম হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি হিসাবে আমলাশুলিতে তৃণমূলের একটি মহামিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার সময় আমলাপাড়া এলাকায় বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিজেপি কর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে তৃণমূল কর্মীদের উপর আক্রমণ চালায়। কয়েকটি মোটরবাইকও ভাঙচুর করা হয় বলে তাদের অভিযোগ। ওই ঘটনায় সাতজন তৃণমূল কর্মী সমর্থক আহত হয়েছে বলে জানান গড়বেতার তৃণমূল বিধায়ক আশীষ চক্রবর্ত্তী। তিনি আরও জানান,’বিজেপি কোন গণতন্ত্র মানে না। প্রধানমন্ত্রীর সভার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি কর্মীরা আমাদের তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে আমাদের এক কর্মীকে পিটিয়ে খুন করেছে বিজেপির লোকেরা।’

উল্লেখ্য মঙ্গলবার দুপুরে গড়বেতার লক্ষ্মণপুরে পানীয় জলের ট্যাপ খোলা নিয়ে বিবাদের জেরে দাদা দশানন পাত্রের মারে মৃত্যু হয় ভাই তপন পাত্র। এই ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত দাদা দশানন পাত্রকে মঙ্গলবারই গ্রেফতার করা হয়েছিল। তপনের ছেলের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার গ্রেফতার করা হয় শ্যামাপদ মণ্ডল ও নিত্যানন্দ মণ্ডল নামে আরও দুইজনকে। এই ঘটনায় ১৩ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে মৃতের পরিবার। এরা সকলেই এলাকার বিজেপি কর্মী। বুধবার গড়বেতা এসিজেএম আদালতে তোলা হয় ধৃত দশানন পাত্র, শ্যামাপদ মণ্ডল ও নিত্যানন্দ মণ্ডলকে। দশাননকে ৩ দিনের পুলিশ হেফাজত ও বাকী ২ জনকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। এ বিষয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি সুমিত দাস বলেন,’পরিবারিক সমস্যাকে রাজনৈতিক রঙ লাগিয়ে আমাদের কর্মীদের গ্রেফতার করাচ্ছে তৃনমূল। কারন ওরা ভয় পেয়েছে। কিন্তু বিজেপিকে এই ভাবে রোখা যাবে না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here