ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে হরিণঘাটায়! গত পাঁচ দিনে মৃত্যু ৩ জনের, আক্রান্ত শতাধিক

0
67
kolkata bengali news, district news

নিজস্ব প্রতিবেদক, হরিণঘাটা: নদিয়া জেলায় ক্রমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। তেহট্টর পর এবার হরিণঘাটা মহকুমায় থাবা বসাচ্ছে ডেঙ্গু। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হরিণঘাটার ফতেপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বৈকারা গ্রামে। এই গ্রামে গত পাঁচ দিনে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ৬ বছরের এক শিশুও রয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা শতাধিক। অথচ স্থানীয় প্রশাসন নির্বিকার বলে অভিযোগে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত একমাস ধরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে ফতেপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বৈকারা গ্রামে। এর মধ্যেই শতাধিক গ্রামবাসী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তারপর স্থানীয় হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত একের পর এক রোগীর মৃত্যুর পরেও স্থানীয় প্রশাসনকে এবিষয়ে কোনও তত্পরতা করেনি বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীরা এতদিন এব্যাপারে কোনও প্রতিবাদ না করলেও গত শুক্রবার ৬ বছরের সোহানি সুলতানার মৃত্যুর ঘটনা কেউ মেনে নিতে পারেনি। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েই সোহানির মৃত্যু হয়েছে। সোহানির বাবা সাইফুল মন্ডলের অভিযোগ, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সত্ত্বেও তাঁর মেয়ে ঠিকমত চিকিৎসা পায়নি। চিকিত্সার গাফিলতিতেই সোহানির মৃত্যু হয়েছে। সইফুলের এই অভিযোগের পরই স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরব হন বৈকারা গ্রামের বাসিন্দারা। বিক্ষোভও দেখান তাঁরা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ডেঙ্গু ঠেকাতে এলাকায় মশা দমনের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মশা মারার জন্য স্প্রে করা হয় না। এমনকি আশাকর্মীরা এলাকা পরিদর্শনে এলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বা আক্রান্তদের চিকিত্সার ব্যাপারে কোনও কাজ করতেন না। গ্রামবাসীদের এই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ অবশ্য বিফলে যায়নি। গ্রামবাসীদের চাপে হলেও রবিবার থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এবং ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার ব্যাপারে তৎপরতা শুরু করল স্থানীয় প্রশাসন।

এদিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে হরিণঘাটার বিডিও কৃষ্ণগোপাল ধারা ও নদিয়া জেলা তৃণমূলের কর্মাধ্যক্ষ চঞ্চল দেবনাথ বৈকারার ডেঙ্গু-সংক্রামিত এলাকা পরিদর্শনে আসেন। ডেঙ্গু সংক্রমণের ব্যাপারে যে প্রশাসনের গাফিলতি রয়েছে, সে কথা দু’জনেই স্বীকার করে নেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। বিডিও ও তৃণমূল কর্তার এই আশ্বাসের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনের তরফে এলাকায় মশা তাড়ানোর স্প্রে করা হয়। এছাড়া চিকিত্সা শিবির করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের শনাক্ত করার কাজও শুরু হয়েছে। কিন্তু যে এলাকায় প্রশাসনের তরফে চিকিত্সা শিবিরটি হয়েছে, সেখানে একটি পোল্ট্রি ফার্ম রয়েছে। ডেঙ্গু রোগীর শনাক্তকরণ বা চিকিত্সা কীভাবে পোল্ট্রি ফার্মের কাছে হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই নদিয়ার তেহট্ট মহকুমার হাতিশালা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ডেঙ্গু সংক্রমণের খবর প্রকাশ্যে আসে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েকজন তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালেও ভর্তিও হয়েছে। অথচ সেখানেও ডেঙ্গু প্রতিরোধের ব্যাপারে প্রশাসন কোনও উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here