নিজস্ব প্রতিবেদক, মেদিনীপুর: রাতের অন্ধকারে গরু চুরি করতে গিয়েছিল। ভাবতে পারেনি, গরু চুরি করতে গিয়ে শ্রীঘরে ঢুকতে হবে। বৃহস্পতিবার মাঝরাতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা থানার মহেশপুর খানডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দাদের তত্পরতায় এমনটাই ঘটল। তিন যুবককে হাতেনাতে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দিল গ্রামবাসীরা। পুলিশ জানায়, ধৃতদের নাম আহমেদ খান, সাদক আলি এবং শেখ সইফুদ্দিন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলারই বাসিন্দা এই তিন যুবককে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হলেও এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত আহমেদ খান, সাদক আলি এবং শেখ সইফুদ্দিন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বাসিন্দা হলেও তিনজন তিন এলাকায় থাকে। গড়বেতা থানার বরডিহা গ্রামের বাসিন্দা আহমেদ, কেশপুর থানার নেড়াদেউলের সাদক এবং চন্দ্রকোনা থানার খিড়কিবাজারের বাসিন্দা সইফুদ্দিন। বৃহস্পতিবার মাঝরাতে এরা একসঙ্গে গরু চুরির উদ্দেশ্যে চন্দ্রকোনা থানার মহেশপুর খানডাঙ্গা এলাকায় ঢোকে। তারপর গৃহস্থের বাড়ির বাইরে খাটাল থেকে গরু চুরি করে বেরোনোর সময়ই কয়েকজন গ্রামবাসী তাদের দেখে ফেলে। এরপর প্রত্যক্ষদর্শীদের চিত্কারে গ্রামের অন্যান্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং গরু সহ হাতেনাতে আহমেদ, সাদক ও সইফুদ্দিনকে পাকড়াও করে। বরাতজোরে গণপিটুনির শিকার হয়নি। গ্রামবাসীরা তাদের বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেয়। তবে এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তারপর শুক্রবার সকালে চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ আধিকারিক জানান, গরু চুরির ঘটনা ঘিরে বড় কোনও গণ্ডগোল না হলেও এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিশাল পুলিশ বাহিনীর চেষ্টায় অবশ্য আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। তবে ঝুঁকি এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় গরু চুরির ঘটনা অবশ্য এটাই প্রথম নয়। বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু চুরির খবর আসছিল বলে পুলিশও স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে গরু চুরি রুখতে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দিয়েছেন চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ আধিকারিক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here