ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পরই ‘বেটি পড়াও বেটি বাঁচাও’ প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রকল্প কি আদৌ সফল? বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তব চিত্রটা কিন্তু ঠিক বিপরীত কথাই বলেছে। গবেষণা বলছে আমাদের দেশের দরিদ্র পরিবারের ৩০ শতাংশ মেয়েরাই নিরক্ষর। স্কুলের গণ্ডিটাও পেরনোর সুযোগ পায় না। ভারতের মত দেশের মহিলাদের শিক্ষার এই পরিসংখ্যান এককথায় ঘুম কেড়ে নেওয়ার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। জাতীয় শিক্ষার অধিকার আইনের আহ্বায়ক অম্বরীশ রায় ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উপলক্ষে একটি বিবৃতি দিয়ে বলেন, ৬ কোটিরও বেশি সংখ্যক মেয়েরা প্রথাগত স্কুলের শিক্ষার গণ্ডির বাইরে রয়েছে। এমনকি শুধু মেয়েরা নয় দেশের ২৫ শতাংশ ছেলেরাও সামান্য দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষাটুকুও পায় না। গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে যে ৩৬ শতাংশ মেয়েদের পাশাপাশি ৩৮ শতাংশ ছেলেরাও ইংরেজি পড়তে অক্ষম।

যখন গোটা দেশ জুড়ে সকলে মহাসমারোহে আন্তর্জাতিক নারীদিবস পালিত হচ্ছে তখন মহিলাদের শিক্ষার এই পরিস্থিতিকে এককথায় শোচনীয় বলা যায়। সমীক্ষা অনুযায়ী ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সের বয়ঃসন্ধিকালের মেয়েদের মধ্যে ৪০ শতাংশই কোনও রকম শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত নয়। শিক্ষার অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক ভারতের মহিলাদের নিরক্ষরতার এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে বলেন বাস্তব পরিস্থিতি খুবই হতাশাজনক। আহ্বায়ক রায় বলেন, দেশের যে সমস্ত মেয়েরা প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পায় তারাও উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতার অভাবে তাদের শিক্ষাগ্রহণ চালিয়ে যেতে পারে না। ফলে তাদের স্কুল থেকে ছাড়িয়ে দিয়ে কোথাও কাজে লাগিয়ে দেওয়া হয়।

শিক্ষার বার্ষিক রিপোর্টে সমীক্ষার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা গিয়েছে মাধ্যমিক স্তরের ছাত্রছাত্রীরা প্রাথমিক পঠন পাঠনের এবং গণিতশিক্ষার মান অত্যন্ত নিম্ন। ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার ফলাফল ক্রমশ নিম্নাভিমুখী হয়েছে। অম্বরীশ রায় প্রশ্ন করেন যে কেন্দ্র সরকার কেন দেশের ছেলে ও মেয়েদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না? সরকারি স্কুলের তুলনায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় এবং অন্যান্য বেসরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার মান অনেক উন্নত। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে কেন্দ্র সরকার জিডিপির মাত্র ২.৭ শতাংশ দেশের শিক্ষার জন্য ব্যায় করে। যেখানে পূর্বে জিডিপির ৩.১ শতাংশ দেশের শিক্ষার জন্য বরাদ্দ ছিল। তবে কোঠারি কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী দেশের শিক্ষার জন্য জিডিপির ৬ শতাংশ ব্যায় করা বাধ্যতামূলক। যদিও বর্তমান কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সেই বরাদ্দের ধারকাছ দিয়েও যাচ্ছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here