kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এ যেন কার্যতই কেঁচো খুঁড়তে কেউটে! জাল নোটের সূত্র ধরে তদন্ত করতে গিয়ে মনিপুর – নাগাল্যান্ড সীমান্তবর্তী এলাকার জঙ্গি সংগঠনের চার সদস্যকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স। শুক্রবার হাওড়ার গোলাবাড়ি এলাকা থেকে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকা। ধৃতদের জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পান লালবাজারের গোয়েন্দারা।

লালবাজার সূত্রের খবর, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে ধর্মতলা বাস স্ট্যান্ড চত্বর থেকে বছর উনত্রিশের এক মনিপুরী যুবককে আটক করেন স্পেশাল টাস্কফোর্সের আধিকারিকরা। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় মোট দেড় লক্ষ টাকার ভারতীয় জাল নোট। উদ্ধার হওয়া সবকটি নোটই ২ হাজার টাকার ছিল বলে জানায় পুলিশ। এরপরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। স্পেশাল টাস্কফোর্স সূত্রে খবর, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় থেকেই ধৃতের মতিগতি দেখে বেশ সন্দেহজনক ঠেকছিল তদন্তকারী আধিকারিকদের। এরপর ধৃত যুবককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও মুখ খুলতে চায়নি সে। তদন্তে নেমে ধৃত যুবকের সম্পর্কে খতিয়ে দেখা হলে সন্দেহ ক্রমেই বাড়তে থাকে এসটিএফের গোয়েন্দাদের। ধৃতকে শুক্রবার আদালতে পেশ করা হলে ১৩ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেন বিচারক। এরপরই নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ধৃত মণিপুরী যুবককে লাগাতার জেরা শুরু করেন এসটিএফের গোয়েন্দারা। তাতেই গোয়েন্দাদের হাতে উঠে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এসটিএফ সূত্রে খবর, ধৃতকে দফায় দফায় জেরা করা হলে একসময় গোয়েন্দাদের কড়া প্রশ্নের মুখে ভেঙে পড়ে অভিযুক্ত। তদন্তকারী আধিকারিকদের সে জানিয়ে দেয় তার আরও চারজন সহযোগীর নাম। সেই সূত্র ধরেই শুক্রবার দুপুরে হাওড়া জেলার গোলাবাড়ি এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায় কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স। হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় ওই যুবকের সহযোগী চারজন সাগরেদকে। ধৃতদের মধ্যে দুজন মহিলা এবং দুজন পুরুষ বলে জানিয়েছে লালবাজার। তল্লাশি চালিয়ে তাদের গোপন আস্তানা থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকা। এরপরই ধৃত চার জনকে হেফাজত নিয়ে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন লালবাজারের গোয়েন্দারা।

এসটিএফ সূত্রে খবর, তাদের জেরা করে জানা যায়, ধৃত চারজনই মনিপুর-নাগাল্যান্ড সীমান্তবর্তী এলাকায় অন্যতম সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন জোলিয়াংরঙ ইউনাইটেড ফ্রন্ট (জেডইউএফ) এর সদস্য। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, জেডইউএফ এখনও পর্যন্ত নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠীর তালিকাভুক্ত না হলেও, উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন এলাকায় নাশকতার জন্য কুখ্যাত এবং দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের মাথা ব্যাথার অন্যতম কারণ। লালবাজার সূত্রে খবর, ধৃত চারজনের থেকে উদ্ধার হওয়ার ৩৬ লক্ষ টাকা এক ব্যক্তিকে অপহরণ করেই আদায় করেছিল তারা৷ উদ্ধার হওয়া এই টাকা পুনরায় পরীক্ষার জন্য পাঠাচ্ছে পুলিশ। যদিও তা জাল নয় বলেই প্রাথমিক তদন্তে অনুমান তদন্তকারী আধিকারিকদের।

এসটিএফের এক তদন্তকারী আধিকারিক জানান, মনিপুরে একটি বেসরকারি সংস্থার প্রজেক্ট ম্যানেজার অভিজিত ধর নামের এক ব্যক্তিকে অপহরণ করেছিল ওই জঙ্গি সংগঠন। তাকে ছাড়াতেই মুক্তিপণ হিসেবে এই ৩৬ লক্ষ টাকা আদায় করেছিল ধৃতেরা। চাহিদা মতো মুক্তিপণ পেয়ে নিজেদের কবল থেকে অপহৃত অভিজিৎ বাবুকে মুক্তি দেয় তারা। ধৃতদের বিরুদ্ধে আর কি কি অভিযোগ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। ধৃত চারজনকে শনিবার আদালতে পেশ করে অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজত চাওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here