Parul

মহানগর ডেস্ক: করোনার হাত থেকে বিশ্বের মুক্তি কবে তা এখনো জানা যায়নি। কিন্তু সারা বিশ্বে এখনো কমবেশি তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছে করোনা। সেই নিয়েই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চিফ সাইন্টিস্ট সৌম্য স্বামীনাথন জানিয়েছেন, একটা বিষয় পরিষ্কার যে সারা বিশ্বে করোনার নয়া রূপ ডেল্টা ভেরিয়েন্ট বিস্তার এবং টিকা প্রদানের প্রক্রিয়া ধীরগতিতে হওয়ার কারণেই পুরোপুরিভাবে মহামারী প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। করোনা টিকা প্রদানের প্রক্রিয়া যে ধীরগতিতে চলছে সেটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রকাশিত।

ads

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে স্বামিনাথান জানিয়েছিলেন, যে বিশ্বে ৬টি জায়গার মধ্যে ৫ টি জায়গাতেই করোনা সংক্রমনের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এমনকি গত দুই সপ্তাহে আফ্রিকাতে মৃত্যুর হার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। তিনি আরো জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘন্টায় ৫ লক্ষ নতুন সংক্রমনের সংখ্যার রিপোর্ট জমা পড়েছে। এছাড়াও প্রায় মারা গিয়েছে ৯,৩০০ জন। অর্থাৎ এটাকে বলা যেতে পারে যে ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে মহামারীরতে সংক্রমিত এর সংখ্যা।

সৌম্য স্বামীনাথন চারটি খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ জানিয়েছেন, যার ফলে ক্রমাগত এই সংক্রমনের সংখ্যা বেড়ে চলেছে বিশ্বে। তার মধ্যে প্রথম এবং গুরুত্বপূর্ণ হলো বর্তমানে সারাবিশ্বে চোখ রাঙাচ্ছে ডেল্টা প্লাস ভেরিয়েন্ট। এছাড়াও সামাজিক মিশ্রণ অর্থাৎ দূরত্ব বজায় না রেখে ভীর জাতীয় এলাকায় একসঙ্গে অনেকের সমাগম, লকডাউন এর বিধি নিষেধে স্বাচ্ছন্দ এবং বেশিরভাগ জায়গায় ধীরগতিতে টিকা প্রদান করার প্রক্রিয়া। এই চারটে বিশেষ কারণের জন্য বিশ্বে আবারো ক্রমাগত হারে বাড়ছে সংক্রমনের সংখ্যা। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ডেল্টা প্লাস ভেরিয়েন্ট এখনো পর্যন্ত করোনার সবথেকে বিপদজনক একটি রূপ। যা বৃদ্ধি পাবার পেছনে মূল কারণ হলো করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কোনো ব্যাক্তি যদি কমপক্ষে তিন জনকে সংক্রমিত করতে পারে, তাহলে ডেল্টা প্লাস ভেরিয়েন্ট আক্রান্ত ব্যক্তি ৮০ জনকে সংক্রমিত করতে পারে।

তিনি আরও জানিয়েছেন যে, এই মহামারীর মধ্যেও বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে। এবং সামাজিক দূরত্ব নেই। একসঙ্গে অনেকে এক জায়গায় জড়ো হচ্ছে। যার ফলে সংক্রমনের সংখ্যা দ্রুত গতিতে বাড়ছে। বিশ্বের অনেক দেশেই এই বিষয়গুলোতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিনা প্রয়োজনে বেরোনো বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও জনসমাগম বেশ কিছু জায়গায় দেখা যাচ্ছে এখনো। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি দেশে দেখা গিয়েছে যে হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে সমস্যা, অক্সিজেনের ঘাটতি, হাসপাতালে শয্যার অভাব, এমনকি ভ্যাকসিনের পর্যন্ত অভাব রয়েছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন যে, তৃতীয় ট্রায়াল’ অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত জানা গিয়েছে যে কোভ্যাকসিন টিকা খুবই ভালো এবং উৎসাহজনক। কারণ এর কার্যকারিতার মান খুবই উচ্চতর। এমনকি এই ভ্যাকসিন ডেল্টা ভেরিয়েন্ট সঙ্গেও লড়াই করতে সক্ষম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here