ডেস্ক: আগামী ২৬ মে চার বছর পূর্ণ হচ্ছে নরেন্দ্র মোদীর শাসনকালের। কংগ্রেসের দুর্নীতি, ব্যর্থতা এবং ঢালাও প্রতিশ্রুতিকে ঢাল বানিয়ে ২০১৪ সালে এই দিনেই ক্ষমতায় এসেছিলেন মোদী। একদিকে প্রধানমন্ত্রী যেমন তাঁর সরকারের সফলতা প্রদর্শনে ব্যস্ত, কংগ্রেস অন্যদিকে তাঁর সরকারের ব্যর্থতা গুলিকে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে উদগ্রীব। এই কারণেই ২৬ মে দিনটিকে ‘বিশ্বাসঘাতক দিবস’ রূপে পালন করছে রাহুল গান্ধির দল। এই চার বছরে অনেক প্রকল্পের সূচনা, বহু প্রকল্পের বাস্তবায়ন করেছেন বিজেপি সরকার। কিন্তু মুদ্রার অন্য পিঠে ব্যর্থতার সূচিও কম লম্বা নয়। দেখে নেওয়া যাক মোদী সরকারের এমন ১০টি ব্যর্থতা যা ভবিষ্যতে নেতিবাচক সংকেত নিয়ে আসতে পারে বিজেপি সরকারের জন্য…

১. এভারেস্টে উঠেছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম: প্রত্যেক কেন্দ্রীয় সরকারের জন্যই এই দুই পেট্রোপণ্যের দাম আয়ত্তের মধ্যে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ক্ষমতায় আসার আগে মোদীও কংগ্রেস সরকারের এই দুর্বলতার উপর বারবার হামলা চালিয়েছেন। কিন্তু তার সরকারের আমলেই পেট্রোলের দাম ৮৫ টাকা লিটার পর্যন্ত উঠেছে যা আগে কখনও হয়নি।

২. অশান্ত উপত্যকা: বিগত ১ বছরে উপত্যকার সিমান্তবর্তী এলাকায় যতবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকেও এও মাসুল গুণতে হয়েছে তা আগে কখনও হয়নি। লাগাতার গুলিবর্ষণ এবং পাক রেঞ্জার্সের সঙ্গে এনকাউন্টারে জওয়ানদের প্রাণ হারানো যেন রুটিনে পরিণত হয়েছে।

৩. পাকিস্তান নিয়ে মোদী সরকারের অবস্থান: প্রধানমন্ত্রী পদে বসার আগে থেকেই পাক প্রসঙ্গ নিয়ে কড়া নীতি আরোপ করেছিলেন মোদী। তাঁর মন্ত্রীসভার মন্ত্রীরাও সর্বদাই অ্যাটাকিং মুডে থাকে পাকিস্তান প্রসঙ্গে। কিন্তু একবার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বাদ দিলে পাকিস্তান নিয়ে মোদী কোনও স্পষ্ট অবস্থানে আসতে পারেন নি। তিনি সে দেশে সফরে গেলেও নিট ফল ‘শূন্য’ই হয়েছে। স্পষ্ট অবস্থানের অভাবের ফল ভুগতে হচ্ছে সীমান্তের জওয়ান এবং সাধারণ অধিবাসীদের।

৪. কালো টাকার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি: ক্ষমতায় আসার আগে করা বেশ কিছু প্রতিশ্রুতির মধ্যে অন্যতম ছিল বিদেশ থেকে কালো টাকা ফিরিয়ে এনে তা সাধারণ মানুষদের উপকারিতায় ভাগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। বলার বাহুল্য, দেশ থেকে হাজার কোটি টাকা মেরে শিল্পপতিরা বিদেশ পালালেও, বিদেশ থেকে কালো টাকা আনার প্রতিশ্রুতি কেবল প্রতিশ্রুতিই হয়ে রয়ে গিয়েছে।

৫. বেকারত্ব ইস্যুতে চরম ব্যর্থতা: দেশের আরেকটি জ্বলন্ত সমস্যা বেকারত্ব ঘুচিয়ে দেবেন বলে অনেকবারই দাবি করেছিলেন মোদী। কিন্তু বেকারত্বের অবস্থা যা ছিল তাই রয়ে গিয়েছে। উল্টে নোটবন্দি ও জিএসটির জোড়া ফলায় কর্মহারাও হতে হয়েছে লক্ষাধিক মানুষকে।

৬. ব্যর্থ মোদীর নোটবন্দি: ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের সেই সন্ধ্যে কোনও ভারতবাসী ভুলতে পারবেন বলে মনে হয় না। অনেক স্বপ্ন, এই হবে ওই হবে, এমন অনেক আশ্বাস দিয়ে পুরনো নোট বন্ধ করলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ফলস্বরূপ ব্যাঙ্ক ও এটিএমের লাইনে দাঁড়িয়ে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর বেশি আর কিছুই লাভ হয়েছে কেউ বলতে পারবেন না।

৭. শিকেয় উঠেছে নমামি গঙ্গে যোজনা: অনেক ঢাকঢোল পিটিতে গঙ্গার জলকে স্বচ্ছ করতে নমামি গঙ্গে প্রোজেক্ট শুরু করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। বাজেট ছিল প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা। কিন্তু চার বছরের শেষে দেখা যাচ্ছে এই যোজনা কার্যত বিশ বাঁও জলে। কারণ, এই প্রকল্পে প্রস্তাবিত অর্থের সিংহভাগ টাকাই খরচ করা হয় নি।

৮. মুখ থুবড়ে পড়ল আদর্শ গ্রাম যোজনা: ভারতকে উন্নত করতে গেলে যে একেবারে তৃণমূল স্তর থেকে করতে হবে তা জানতেন মোদী। সেই কারণেই প্রত্যেক সাংসদ পিছু ৫টি করে গ্রাম দত্তক নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। ৪ বছর কেটে গেলেও হাতে গুনলে এমন খুব কমই গ্রাম পাওয়া যাবে তা আদর্শ গ্রাম রূপে উঠে এসেছে।

৯. নেপালের সঙ্গে সম্পর্ক ঠেকেছে তলানিতে: দিনকয়েক আগেই নেপাল সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু রয়ে গিয়েছে গোড়ায় গলদ। মধেশিয়া ইস্যুর কারণে নেপালের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। নেপালের নতুন সংবিধান লাগু হওয়ার পর মধেশিয়ার প্রতিনিধিরা তার বিরোধ করেছিলেন। তখন ভারত মধেশিয়াকেই সমর্থন জানিয়েছিল। একই সঙ্গে পেট্রোল ডিজেলের মতো আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের রপ্তানিও আটকে দেওয়া হয়। মাঝখানে এর ফায়দা তুলে চিন নেপালের আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ে।

১০. দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি স্পর্শকাতর: দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে সামাল দিতে মোদী সরকারের ব্যর্থতা চোখে পড়ার মতো। কারণ মুখে দাবি করলেন, দেশের ভিতরেই ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্রের বেশ কিছু জেলায় মাওবাদীদের প্রভাব এখনও চরমে। প্রতি মাসেই মাও হামলায় প্রাণ খোয়াতে হচ্ছে জওয়ানদের। দেশের ভিতর অভ্যন্তরীণ হামলাতেই বিগত চার বছরে শতাধিক সেনার মৃত্যু হয়েছে। এই পরিসংখ্যান মোদীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিফলতা আরও সাফ করে দেয়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here