পাকিস্তানে মহামারির আকার নিতে চলেছে এইডস, সিন্ধে আক্রান্ত কমপক্ষে ৪৩৭ শিশু

0
61
hiv

মহানগর ওয়েবডেস্ক: মাস খানেক আগেও এইচআইভি-র বিষয়ে সচেতন ছিলেন না দক্ষিণ পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের বাসিন্দারা। এক মাসের মধ্যেই চালচিত্রটা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। এখন সিন্ধ প্রদেশের সর্বত্র, বিশেষত রাতোদেরো শহরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে উপচে পড়া ভিড়। কেউ নিজের এইচআইভি-র সংক্রমের খবর নিতে গিয়েছেন তো অধিকাংশই গিয়েছেন সন্তানের ‘ভবিষ্যত্’ জানতে। আর হবে নাই বা কেন! বর্তমানে কেবল সিন্ধ প্রদেশে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশই শিশু। সবমিলিয়ে,পাকিস্তানে মহামারির আকার নিতে চলেছে এইচআইভি।

সিন্ধের সরকারি আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, শুক্রবার পর্যন্ত সিন্ধ প্রদেশে এইচআইভি আক্রান্তেপ সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে কমপক্ষে ৪৩৭টি শিশু রয়েছে। এদের মধ্যে আবার ৬০ শতাংশের বয়স ৫ বছরের নীচে। এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাতোদেরো শহরের চিকিত্সক ইমরান আকবর। তিনি জানান, ফতেমা বেগম নামে ১৬ মাসের এক শিশুর প্রথম এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। সে বহুদিন ধরে জ্বর, সর্দি-কাশিতে ভুগছিল। বহু চিকিত্সা করেও সুস্থ না হওয়ায় তার এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। তখনই জানা যায়, ফতেমাও এইচআইভই-তে আক্রান্ত। ১৬ মাসের শিশুর এইচআইভি-তে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতে চিকিত্সক থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্তা-ব্যক্তিদেরও চোখ কপালে উঠেছিল। এরপর ফতেমার মতোই উপসর্গ নিয়ে চিকিত্সকের কাছে আসা অন্যান্য শিশুদেরও এইচআইভি পরীক্ষা করা হয় এবং অধিকাংশের এইচআইভি-তে আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসে।

হঠাত্ করে সিন্ধে কীভাবে এতজন এইচআইভি-তে আক্রান্ত হলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সিরিঞ্জ সংক্রমণ থেকেই এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে বলে প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান। ‘সিন্ধ এইডস কন্ট্রোল প্রোগ্রাম’-এর অধিকর্তা সিকন্দর মেননও জানিয়েছেন, সিন্ধের বহু চিকিত্সকই হাতুড়ে। এখনও ব্যায় কমাতে একই সিরিঞ্জে একাধিক জনকে ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর এবং একই সরঞ্জাম দিয়ে বহুজনের নাক-কানের ভিতরের চিকিত্সাও করা হয়। তার ফলেই এইচআইভি-র জীবাণু শিশু থেকে বৃদ্ধ- সকলের মধ্যে হু হু করে ছড়িয়ে পড়েছে বলে মেননের দাবি। ইতিমধ্যে রাতোদেদোর এক শিশু চিকিত্সককে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। ওই চিকিত্সক কমপক্ষে ১০টি পরিবারের শিশুদের একই সিরিঞ্জে টীকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ। তবে প্রশাসন বা সিন্ধ এইডস কন্ট্রোল প্রোগ্রাম-এর আধিকারিকেরা এই সমস্ত কিছু জানার পরেও এতদিন কেন এই বিষয়ে নীরব ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রসঙ্গত, বছর দুয়েক আগে ২০১৭ সালেও পাকিস্তানে এভাবে মহামারির আকার নিতে শুরু করেছিল এইডস। সেবার ২০ হাজার এইডস রোগীর সন্ধান মিলেছিল। বর্তমানে এইচআইভি সংক্রমণে পাকিস্তান বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here