sports bengali news

Highlights

  • ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সাইয়েরই ২৪টি ইনস্টিটিউটে ৪৫টি যৌন হেনস্থার অভিযোগ জমা পড়েছে
  • সর্বভারতীয় এক সংবাদপত্রে এই বিষয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়
  • সাইয়ের প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল নীলম কাপুর দাবি করেছেন, এর থেকেও অনেক বেশি যৌন হেনস্থার ঘটনা ঘটেছে

মহানগর ওয়েবডেস্ক: বিগত কয়েক বছরে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে নাড়িয়ে দিয়েছে #মিটু আন্দোলনের ঢেউ। কীভাবে কাজ দেওয়ার অছিলায় কোনও অভিনেত্রীর শারীরিক হেনস্থা করা হয়েছিল বা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই হিসেবে ক্রীড়াক্ষেত্র অনেকটাই মলিন, নারীদের জন্য অনেকটাই সুরক্ষিত। আজ্ঞে না! রিপোর্ট বলছে, ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সাইয়েরই (স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া) ২৪টি ইনস্টিটিউটে ৪৫টি যৌন হেনস্থার অভিযোগ জমা পড়েছে।

সম্প্রতি সর্বভারতীয় এক সংবাদপত্রে এই বিষয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। একটি আরটিআইয়ের ওপর ভিত্তি করেই ওই রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়েছিল। তাতে দেখা গিয়েছে শেষ এক দশকে সাইয়ের ২৪টি প্রতিষ্ঠানে ৪৫টি যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছেন অ্যাথলিটরা। এর মধ্যে আবার ২৯টি কোচদের বিরুদ্ধে। জিমন্যাস্টিক, ভারোত্তোলন, কুস্তির মতো খেলায় আবার এই হেনস্থার ঘটনা আবার সবচেয়ে বেশি ঘটে।

চমকে দেওয়ার মতো এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেচে ক্রীড়ামহল। বিশেষ করে সাইয়ের মতো কেন্দ্রীয় অধীনস্থ সংস্থায় এত যৌন নির্যাতনের ঘটনা মুখ পুড়িয়েছে সরকারের। কিন্তু এটা নাকি সমুদ্রের জলে নিমজ্জিত একটুকরো হিমশৈলের মতো। সমস্যা আরও গভীরে। ওই সংবাদপত্রেই এক সাক্ষাৎকারে সাইয়ের প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল নীলম কাপুর দাবি করেছেন, এর থেকেও অনেক বেশি যৌন হেনস্থার ঘটনা সাইতে ঘটেছে।

তিনি জানান, ‘অবশ্যই এই তথ্য আমায় বেশ হতবাক করেছে। কিন্তু আমার মনে হয় যে সংখ্যাটা প্রকাশ পেয়েছে, তার থেকে অনেক বেশি এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কারণ অনেকেই কিন্তু অভিযোগ করতে সাহস পান না। এই নিয়ে আমি বেশ তথ্য সংগ্রহ করেছি। আমি দেখেছি সাইয়ে এমন অনেক অভিযোগ জমা পড়েছে। কিন্তু বছর কেটে গেলেও সেই অভিযোগের সঠিক তদন্ত হয় না। ফলে একটা বেপরোয়া মনোভাব এসে গিয়েছে।’

‘অনেক এমন ভুক্তভুক্তি আছেন যারা জানেনই না এই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে। আবার অনেকে ভাবেন কোচের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তাদের কেরিয়ার শেষ হয়ে যাবে। ফলে কোথাও একটা মানিয়ে নেওয়ার বা মেনে নেওয়ার মানসিকতা অ্যাথলিটদের মধ্যেও চলে আসছে’, জানান নীলম।

ওই রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, সাই কর্তৃপক্ষের কাছে যৌন হেনস্থার অনেক অভিযোগ জমা পড়লেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই সব অভিযুক্তদের কোনও রকম শাস্তি দেওয়া হয় না, বা যে শাস্তি দেওয়া হয়, তাও যৎসামান্য। যেমন, যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত এক কোচের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করতেই সাইয়ের তিন বছর সময় লেগে গিয়েছিল। তারপর শাস্তি হিসেবে ওই কোচের এক বছরের পেনশনের মাত্র ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়। আবার অন্য এক কোচের ক্ষেত্রে তাঁর মাসিক বেতন থেকে ৯১০ টাকা করে কেটে নেওয়া হয়েছিল। ভাবা যায়! যৌন হেনস্থার শাস্তি অল্প কিছু আর্থিক জরিমানা! নীলম কাপুরও তাই মনে করেন, এই কারণেই কিছু মানুষরা একটু বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। সাইয়ের হাল তাই দ্রুত ফেরাতে আরও কঠিন আইন লাগু করার দাবি করেছেন তিনি।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here