0521_5_cubs

ডেস্ক: আখের খেতে জমিয়ে রাখা পাতার স্তূপে আগুন দিয়েছিলেন কৃষি-শ্রমিকরা। সেই আগুনে পুড়ে মারা গেল পাঁচটি লেপার্ড-শাবক। পুণের জুন্নার তহশিলের অবসারি গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও বন বিভাগ।

আখ কেটে ফেলার পর খেতে পড়ে ছিল অনেক পাতা ও আখগাছের অবশিষ্টাংশ। আখখেতে জমে থাকা সেই জঞ্জালের স্তূপ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এদিন ভোরে খেতের জঞ্জালে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন কৃষি-শ্রমিকরা। কিন্তু কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পাননি, সেখানে লেপার্ডের বাচ্চাগুলো রয়েছে। দাউ দাউ আগুনের কবলে পড়ে অসহায় লেপার্ড-শাবকগুলি। সেখানেই জীবন্ত পুড়ে মারা যায় পাঁচটি শিশু-লেপার্ড। খবর পেয়ে অকুস্থলে আসে পুলিশ ও বন বিভাগের লোকজন। মৃত শাবকগুলিকে উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। পৃথকভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও বন বিভাগ।

ঘটনার সময় উপস্থিত কৃষি-শ্রমিকরা বন বিভাগকে বলেছেন, আখের জমিতে কাজ করতে এসেছিলাম আমরা কয়েকজন। জমিমালিক আমাদের বলেন, খেতের মধ্যে জমে থাকা পাতা-কাঠের জঞ্জাল পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য। সেইমতো আমরা আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম জঞ্জালে। পরে জনৈক মহিলা লেপার্ডের বাচ্চাগুলিকে দেখতে পান। আমাদের ধারণাই ছিল না, সেখানে বাচ্চাগুলো থাকতে পারে। খবর চাউর হতেই গ্রামের লোকজন ঘটনাস্থলে আসেন। পাঁচটি লেপার্ড-শাবকের পুড়ে মরার ঘটনায় শোকাহত গ্রামের বাসিন্দারা। শোকের পাশাপাশি এলাকায় আতঙ্কও ছড়িয়েছে। শাবক থাকার মানে এলাকাতেই রয়েছে মাদি লেপার্ড।

বন বিভাগের জনৈক কর্তা জানিয়েছেন, লেপার্ড সাধারণত জঙ্গল থেকে বেরিয়ে নির্জন খেতের মধ্যে আশ্রয় নেয় বাচ্চা প্রসব করার জন্য। বাচ্চাগুলি একটু বড় হলেও তাদের নিয়ে ফিরে যায় জঙ্গলে। তাই আশপাশেই মা লেপার্ডের লুকিয়ে থাকার সম্ভাবনা প্রবল। সেই আশঙ্কাতেই এলাকায় পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বনকর্মীরাও গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় সতর্ক নজর রাখছেন। লেপার্ড-শাবকের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তও করছি আমরা। প্রসঙ্গত, গতবছরের মার্চ মাসে বড়গাঁওয়ের আনন্দগাঁও এলাকায় একটি খেতে লাগানো আগুনের গ্রাস থেকে দু’টি লেপার্ড-শাবককে বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here