ডেস্ক: মঙ্গলবার সকাল থেকে ইভিএমে ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই সাফ হয়ে যায় কর্ণাটকেও মোদীর গেরুয়া ঝড় আছড়ে পড়তে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শেষ সময়ে ঝোড়ো প্রচারের কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছে রাহুল গান্ধির কংগ্রেস। বুথ ফেরত সমীক্ষাতে ত্রিশঙ্কু বিধানসভার সম্ভাবনা দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছবিটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে বিজেপিই ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলতে চলেছে। কিন্তু ২০১৩ সালের তুলনায় এই পরিমাণ আসন বৃদ্ধির কারণ বিশ্লেষণ করলে যে মূল তথ্যগুলি উঠে আসছে তা একবার দেখে নেওয়া যাক…

১. মোদী ম্যাজিক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে বিজেপির ১ নং স্টার প্রচারক তা আলাদা করে বলে দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনা। তাঁর প্রচারের ম্যাজিকেই গুজরাত ও ত্রিপুরায় গেরুয়া ঝড় তুলেছিল বিজেপি। একই ম্যাজিক দেখা গেল দক্ষিনী রাজ্য কর্ণাটকেই। ২০১৪-র পর থেকেই দিল্লি ও বিহার বাদ দিলে সব নির্বাচনগুলিই জিতে নিয়েছে বিজেপি। একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হল কর্ণাটকে। মোদী ম্যাজিকেই নির্বাচন জিতে নিল বিজেপি।

২. বিজেপি ও অমিত শাহ রাজনৈতিক বুদ্ধি

বিজেপির ক্যাডার নির্ভর সংগঠন কংগ্রেসের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। বাংলার মতোই বুথভিত্তিক কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন অমিত শাহ। অন্যদিকে, বিজেপির ‘অভিভাবক’ সংস্থা আরএসএসের ক্যাডাররাও বিজেপিকে সক্রিয় সহযোগিতা করে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির বিশেষত্ব হল, তিনি বুথস্তর থেকে রাজনৈতিক নেতা তৈরি করেন। এর ফলে কংগ্রেসের কাছে অমিত শাহের মস্তিস্কের সঙ্গে টক্কর দেওয়ার মতো কোনও নেতা আপাতত নেই।

৩. সিদ্দারামাইয়া

বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই প্রতিষ্ঠান বিরোধী ঝড় উঠেছিল। ১৯৮৫ সালের পর থেকে কর্ণাটকের জনগন কোনও সরকারকে পরপর দুবার বিজয়ী করেনি। ফলে ৫ বছর অন্তর সরকার বদল দক্ষিনী এই রাজ্যে খানিকটা ট্রেন্ডের মতোই হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও দুর্নীতি সহ জাত-পাতের রাজনীতির কারণে কংগ্রেসের বেশ কিছুটা লোকসান হয়েছে বলা চলে।

৪. লিঙ্গায়ত ফ্যাক্টর

নির্বাচনের মাসখানেই আগেই লিঙ্গায়ত সম্প্রদায়ের ভোট টানতে তাদের আলাদা ধর্মের রূপে স্বীকৃতি দিয়েছিল কংগ্রেস সরকার। কিন্তু তাদের এই সিদ্ধান্ত যে উল্টে বুমেরাং হয়ে যাবে তা সম্ভবত বুঝে উঠতে পারেনি রাহুলের দল। এছাড়াও টিপু সুলতানের জন্মদিন পালন থেকে শুরু করে আরও অনেক সিদ্ধান্তের কারণে কংগ্রেসকে নিশানায় নিয়েছে বিজেপি। এই ধর্মীয় রাজনীতি আরেকটি অন্যতম কারণ হতে উঠেছে কংগ্রেসের হারের।

৫. ইয়েদুরাপ্পার ও শ্রীরামুলুর ফিরে আসা

লিঙ্গায়ত নেতা বিএস ইয়েদুরাপ্পা ও শ্রীরামুলু ফিরে আসায় লাভের মুখ দেখে বিজেপি। কারণ লিঙ্গায়তের বড় নেতা হিসাবে পরিচিত তিনি। ২০১২ সালে ইয়েদুরাপ্পা ও শ্রীরামুলু বিজেপি ছেড়ে আলাদা আলাদা নির্বাচন লড়েন। এর কারণেই গত নির্বাচনে লোকসান হয়েছিল বিজেপির। কিন্তু তারা ফিরে আসতেই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল গেরুয়া শিবির।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here