ডেস্ক: লোকসভা ভোট শুরু হয়ে গিয়েছে ৷ আগামী বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্বাচন৷ তার আগে কেন্দ্রে শাসক দল বিজেপির বেশ খানিকটা অস্বিস্ত বাড়াল সেন্টার ফর সাস্টেনেবল এমপ্লয়মেন্ট(ইসএসই)র প্রতিবেদন৷ বেঙ্গালুরুর আজিম প্রেমজি বিশ্বিবদ্যালয়ের গবেষকরা ২০১৯ কর্মসংস্থান বিষয়ক স্টেট অব ওয়ার্কিং ইন্ডিয়া ২০১৯ রিপোর্ট মঙ্গলবার প্রকাশিত করেছে৷ তাতে দেখা গিয়েছে ২০১৬-র ৮ নভেম্বর মোদী সরকারের নোটবন্দি ঘোষণার পরের তিনমাসে ৫০ লক্ষর বেশি মানুষ কাজ হারিয়েছেন ৷ এরমধ্যে গ্রামীন ভারতের দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেশি৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৫৬ ইঞ্চি বুকের ছাতি ১০০ পেরিয়ে গিয়েছিল! প্রকাশ্য সভায় তিনি বার মিথ্যে কে মিথ করার চেষ্টা করছেন৷ তাঁর‘ সব কা সাথ , সবকা বিকাশ’ ‘বিশ বাঁও জলে’ ৷

এই প্রতিবেদন অনুসারে বছের ২ কোটি চাকির দেওয়া দুরস্ত, উল্টে কর্মসংস্থান হু হু করে কমে গিয়েছ৷ গরিবি বেড়ে গিয়েছে৷ অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজের বহর শোচনীয় ৷ মুখে বললেও মোদীর ‘অচ্ছে দিন’ আর আসল না৷ ভোটের মধ্যে এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিরোধীরা মোদী-অমিতের দলেক আক্রমেণর নয়া অস্ত্র পেয়ে গেলেন ৷ এবার ভোটে পদ্ম শিবির তাই কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন নিয়ে বিশেষ কোনও কথাই বলছে না৷ বার্ষিক আয়-এর গড় বৃদ্ধি বা জিডিপি ক্রমশ বাড়ছে বলে দাবি করেছ কেন্দ্রীয় সরকার ৷ তাদের বিভিন্ন সংস্থা খাতায় কলমে তা দেখাচ্ছে ৷ হিসেব মতো জিডিপির হার বৃদ্ধি হলে কর্মসংস্থানও বাড়বে ৷ অথচ তা বাস্তবে হয়নি ৷ তাহলে এই কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি কতটা সঠিক? প্রশ্ন তুললেন সিএসই-র এই রিপোর্টের মূল প্রতিবেদক তথা সিএসই-র প্রধান অমিত বাসোল৷ তাঁর কথায়, বিভিন্ন সূত্র মারফৎ মোদী প্রশাসন দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবি করছে৷ তবে বাস্তবের সঙ্গে তার কোনও মিল নেই ৷

আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৮ সালে বেকারেত্বর হার ৬ শতাংশ বেড়েছে ৷ যা বিগত ৮ বছরে সবচেয়ে বেশি ৷ শহরাঞ্চল এর থেকে গ্রামাঞ্চেলর মানুষ বেশি কাজ হারিয়েছে ৷ কর্মহীনদের মধ্যে ২০ থেকে ২৪ বছেরর তরুন-তরুনীদের সংখ্যা বেশি ৷ দেশের ৮৪ শতাংশ লোক গ্রামাঞ্চলে বাস করে ৷ গ্রামের উচ্চমাধ্যমিক পাশ ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মহিলারা নোটবন্দির পরে অনেকেই কাজ হারিয়েছেন ৷ বাসোলের বক্তব্য, নতুন কাজ তৈরি না হওয়ায় দেশের এই বেহাল দশা৷ তাঁর মতে, এমন হলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য একেবারেই ভাল খবর নয় ৷ এই সমস্যার সমাধানের উপায় বাতলে দেন অমিত বাসোল ৷ তাঁর মতে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি৷ তাই এই ক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ জোর দেওয়া উচিত৷ শহরাঞ্চলে অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে নজর বাড়াতে হবে ৷ খরচ উৎপাদনমুখী হওয়ার পাশাপাশি দেশের শিল্পনীতির আমূল সংস্কার দরকার বলে বিশ্বাস করেন অমিত বাসোল৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here