মহানগর ওয়েবডেস্ক: করোনা আক্রান্তের সংখ্যাতত্ত্বের হিসেব কষে দেখা গিয়েছিল, ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যেই আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। প্রায় ৮০ শতাংশ করোনা আক্রান্তের বয়সই ছিল ৫০-এর নীচে। এদিন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য জানান দিল, ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বয়সই ৬০-এর উপরে। যদিও করোনা আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ষাটোর্ধ্বদের অনুপাতটা কম। সবথেকে বেশি, অর্থাৎ ৪২ শতাংশ করোনা আক্রান্তের বয়সই ২১-৪০ বছরের মধ্যে। এরপর ৪১-৬০ যাদের বয়স, মোট আক্রান্তদের মধ্যে তারা ৩৩ শতাংশ। সদ্যজাত থেকে ২০ বছর বয়স যাদের সেরম আক্রান্তের সংখ্যা ৯ শতাংশ। এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বয়স, অর্থাৎ ৬০ ঊর্ধ্বরা আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই তহ্য ফের একবার সেই চিরাচরিত প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে সকলের সামনে? কেন বেশিরভাগ ষাটোর্ধ্বরাই এই রোগের শিকার হচ্ছেন? এই নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এদিন মূলত দু’টো বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব। তিনি জানান, প্রথমত ষাটোর্ধ্বদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা একটা অন্যতম কারণ। এছাড়াও বয়স বাড়লে খুব স্বাভাবিকভাবেই এই মানুষদের শরীরে অন্যান্য রোগ বাসা বাঁধে। যার মধ্যে অন্যতম হল শ্বাসকষ্ট, ডায়বেটিস এবং হৃদরোগ। করোনার ক্ষেত্রে আবার তারা বেশি ভুগছেন যাদের হাইপারটেনশন রয়েছে। সব মিলিয়ে বেশি বয়স্কদের জন্য এই রোগ প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, ষাটোর্ধ্বদের ক্ষেত্রে দেহ শ্বেত রক্তকণিকা তৈরির ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং তাদের ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে যায়। এদের জন্য সাইটোকাইন স্টর্ম নামে পরিচিত একটি সিনড্রোম মারাত্মক বিপজ্জনক। যখন শরীরে কোনও নতুন ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে তখন প্রতিরোধী কোষগুলির অতিরিক্ত উত্পাদন শুরু। কিন্তু বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই কোষের উৎপাদনস্থলেই ভাইরাস আক্রমণ করে, যার ফলে মারাত্মক প্রদাহ, উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বর এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যথা হতে পারে। এবং তার থেকেই ক্রমশ খারাপ দিয়ে পরিস্থিতি গড়ায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here