old-man-marry
ছবি: প্রতীকী

ডেস্ক: একেবারে সাড়ে চুয়াত্তর! এই বয়সে ফের বিয়ে করতে চান বাগুইহাটি নিবাসী বিপত্নীক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী। যেমন ভাবা, ঠিক তেমন কাজ। ৭ এপ্রিল রবিবার এক দৈনিক পত্রিকায় বিয়ে করতে চেয়ে বিজ্ঞাপণ দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর একটাই শর্ত। হবু বউ এর বয়স ৫০ এর নীচে হতে হবে। উচ্চতা মাত্র পাঁচফুট তিনইঞ্চি বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপণ প্রকাশের পর প্রায় দু’সপ্তাহ হয়ে গিয়েছে। তাঁর দুটি মোবাইল অনর্গল বেজে চলেছে। এতদিনে প্রায় একশো ফোন পেয়েছেন তিনি। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বলেই কি বাংলা বিয়ের বাজারে তাঁর এত কদর? প্রশ্ন শুনে কিছুক্ষন চুপ করে থাকলেন এই বিয়ে পাগলা বুড়ো। তাঁর জবাব, আমাকে নয়, আমার সম্পত্তিকে ভালবাসলে তাকে আমি বিয়ে করব না। তাই বেশ দেখে শুনে এগোতে চাই৷ বললেন তিনি। এরমধ্যে পাঁচ পাত্রীর ইন্টারভিউ একবার সামনা সামনি নিয়েছেন। বলা বাহুল্য তাঁরা কেউ বুড়োকে খুশি করতে পারেননি। বুড়ো বেশ খুঁতখুতে। তাঁর হাজারো বায়নাক্কা। যেমন তাঁকে যত্ন আত্তির করার জন্য হবু বউকে বেশ শক্তসমর্থ হতে হবে। হতে হবে নীরোগ। কোনও রোগ থাকলে চলবে না। কেন? তা হলে ঠিকঠাক যত্ন করতে পারবে না।

তিন বছর হল পত্নী বিয়োগ হয়েছে বুড়োর। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেননি। তাই তিনি মনে করেন এই বিষয়ে মেয়ের কিছু বলার নেই। তারপর থেকে এই নিয়ে বিস্তর ভেবেছেন তিনি। তাই সিদ্ধান্ত নিতে এত বিলম্ব বলে জানালেন তিনি। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কর্মী ছিলেন। জাঁদরেল অফিসার বলে কর্ম জগতে বেশ নামডাক ছিল তাঁর, এমনটাই জানালেন তিনি। তাই তাঁর চোখকে ফাঁকি দেওয়া অসম্ভব বলে বিশ্বাস করেন তিনি। তাই শুধু সম্পত্তির লোভে বিয়ে করার ইচ্ছাও তাঁর চুয়াত্তরের চোখে ঠিক ধরা পড়ে যাবে।

বৃদ্ধাশ্রম তাঁর সাংঘাতিক না-পসন্দ। বিশ্বাস করেন সেখানে পরিচর্যার নামে বুড়োদের রীতিমতো অত্যাচার করা হয়। তাছাড়া আশ্রমের নিয়মের বেড়াজালে নিজেকে আটকে রাখায় তাঁর ঘোর আপত্তি। বাড়িতে কাজের লোকদের ঠিক ভরসা হয় না তাঁর। তাঁর কথায়, এরা পয়সার জন্য কাজ করে কিন্ত কাজকে ভালবেসে না। তাঁর দরকার ভালবাসার মানুষ। তাছাড়া বিয়ে করে ফের বউ আনলে সমাজে কেউ কিছু বলতে পারবে না। তাই ২৫ বছরের ছোটো মনের মতো বউ এর জন্য তিনি অপেক্ষা করতে রাজী। একাকীত্ব এমন একটা অসুখ যার কোনও ওষুধ নেই। মনোবিদদের মতে, মানুষ সবসময়ে সঙ্গী খোঁজে। বিশেষ করে শেষ বয়সে মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। তাই তাঁরা চান সত্যিকারের বন্ধু। এই বোধ থেকেই বাগুইহাটির চুয়াত্তুরে বুড়ো ফের বিয়ে করতে চাইছেন। বুড়ো নিজেও এ কথা স্বীকার করে নিলেন৷ শেষ বয়েসের যষ্ঠির জন্য বউ একমাত্র উপযুক্ত। বলছেন চুয়াত্তরের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অবসরপ্রাপ্ত অফিসার। আর এসব দেখলে শুন্ডির রাজা হলে বলতেন পাত্রী কি কম পড়িয়াছে? সত্যি এই বঙ্গ দেশে পাত্রীর অভাব নেই। কোনও কালে ছিলও না। তার হাতে গরম প্রমাণ চুয়াত্তর বছর বয়সের বাগুইহাটির বুড়ো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here