পরিবেশরক্ষায় দুবাইয়ে পুরস্কৃত একরত্তি ভারতীয় ‘কাগজকুড়ানি’

0
487
nia tony

মহানগর ওয়েবডেস্ক: আমাদের দেশে হলে লোকে তাকে বলত, কাগজকুড়ানি। একে ‘ইতরোচিত’ কাজ হিসেবেই দেখা হয় ভারতে। কিন্তু পরিবেশরক্ষায় সেই কাগজ কুড়িয়েই আরবমুলুকে নজির গড়েছে আটবছর বয়সী এক ভারতীয় বালিকা। প্রশাসন পুরস্কৃতও করেছে নিয়া টনি নামে একরত্তি পরিবেশ-সেনানীকে। প্রায় ১৫০০০ কিলোগ্রাম কাগজের বর্জ্য সংগ্রহ করেছে মেয়ে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর দেশজোড়া রিসাইক্লিং অভিযানের অংশ হিসেবে স্বচ্ছতার সৈনিককে সম্মান জানাতে কসুর করেনি দুবাই।

পরিবেশরক্ষায় আমাদের দেশে স্বচ্ছ ভারত অভিযান চলেছে বেশ কয়েক বছর ধরে। অভিযোগ, সেই স্বচ্ছতা অভিযান ঘিরে রাজনেতাদের দেখনদারি আর প্রচারের ঢাক বাজানোয় পিছনে বিস্তর খরচাপাতি হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনীয়তা দেশের সিংহভাগ নাগরিককে আলোড়িত করতে পারেনি। ফলে চোখ খুলতেই দেশের প্রায় সর্বত্র নোংরা আবর্জনার দেখা মেলে। চতুর্দিকে প্লাস্টিক-পলিথিনের জঞ্জাল প্রতিনিয়ত দূষিত করে চলেছে মাটি, জল, বাতাসকে। সেই নিরিখে আরবের স্বচ্ছতা অভিযান দৃষ্টান্ত ভারতের কাছে দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে মনে করছেন তথ্যাভিজ্ঞ মহল।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর রিসাইক্লিং অভিযানে প্রতিবছর ব্যক্তিগত, সমষ্টিগত এবং প্রতিষ্ঠানগত ভাবে সেরাদের বেছে নিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। এই অভিযান তারা চালাচ্ছে বিগত ২২ বছর ধরে। এবারে ব্যক্তিগত উদ্যোগ বিভাগে সেরার শিরোপা পেয়েছে ভারতীয় বংশোদ্ভুত ছাত্রী নিয়া টনি। একাই ১৪,৯১৪ কিলোগ্রাম নোংরা কাগজ সংগ্রহ করেছে বালিকা। নিজের এলাকায় ঘুরে ঘুরে খুদে নিয়া কুড়িয়ে নিয়েছে মানুষের ফেলে দেওয়া কাগজের টুকরো। এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে তার এই কাজকে সমর্থন জানিয়েছেন নিয়ার অভিভাবকরাও।

সংবাদমাধ্যমের কাছে নিয়া বলেছে, ‘আমাদের মহল্লায় ঘোরার সময় কাগুজে যা কিছু পেয়েছি, কুড়িয়ে নিয়েছি। যাতে এই কাগজের বর্জ্যগুলো পুনর্ব্যবহারের কাজে লাগানো যায়। এলাকাও সাফসুতরো থাকে। প্রতিসপ্তাহে এই কাজ করেছি। এর মধ্যে ফেলে দেওয়া খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন ছাড়াও অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের কাগজ রয়েছে, যা মানুষ যত্রতত্র ফেলে দেয়।’ এ বিষয়ে সচেতনতা প্রচারও করছে ছোট্ট নিয়া। ‘বেপরোয়া’ মানুষ যেদিন বুঝবে, এই সবুজ, প্রকৃতি ধ্বংস আদতে তার নিজেরও ধ্বংস ডেকে আনবে, সেদিন থেকে বদলে যাবে ছবিটা। মানুষ দেখে শেখে আর ঠেকে শেখে।

nia tony and lakshana
নিয়া টনি (বাঁদিকে) আর লক্ষণা কার্তিকেয়ন

নিয়ার মতই পুরস্কৃত হয়েছে আরেক ভারতীয় কন্যা। সাতবছর বয়সী লক্ষণা কার্তিকেয়ন সংগ্রহ করেছে ৬,৯৮৭ কিলোগ্রাম কাগজের বর্জ্য। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর এই স্বচ্ছতা অভিযানে অংশ নেয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারাও। তারা নানা ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ করে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জমা করে। সেই জঞ্জালের মধ্যে কাগজের বর্জ্য ছাড়াও রয়েছে প্লাস্টিক, কাচ, মোবাইল, ক্যান এবং টোনার। ফল মিলেছে হাতেনাতে। সব মিলিয়ে এই অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩,৩৯৩ মেট্রিকটন বর্জ্য রিসাইক্লিংয়ে পাঠিয়ে অনেকখানি দূষণ কমিয়ে আনতে পেরেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। নিয়াদের দেশ ভারত পারবে কি? প্রশ্ন যতটা সহজ, উত্তর ততটাই কঠিন!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here