international news

Highlights

  • করোনার হানায় আতঙ্কের প্রমাদ গুনছে চিন
  • থাইল্যান্ড ও জাপান থেকেও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে
  • সদ্য আমেরিকায় ফেরা এক যুবকের শরীরেও মিলেছে এই রোগের জীবাণু

মহানগর ওয়েবডেস্ক: করোনার হানায় আতঙ্কের প্রমাদ গুনছে চিন। ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসে চিনে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনার জেরে ড্রাগনভূমে মৃত্যু হয়েছিল ৬ জনের, বুধবার সেই সংখ্যাটাই বেড়ে দাড়িয়েছে ৯। তবে আশঙ্কার এখানেই শেষ নয়, চিন তো বটেই শীর্ষ জনসংখ্যার এই দেশকে ভিত করে করোনার হানাদারি শুরু হয়েছে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিতেও। থাইল্যান্ড ও জাপান থেকেও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি, চিন থেকে সদ্য আমেরিকায় ফেরা এক যুবকের শরীরেও মিলেছে এই রোগের জীবাণু। সব মিলিয়ে প্রতিবেশী দেশের এই মহামারীতে উদ্বিগ্ন ভারত সরকারও।

নোভেল করোনাভাইরাসে জেরে ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। চিনের থেকেই এই ভাইরাস গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই চিনের উহান প্রদেশ থেকে থাইল্যান্ড ও জাপানে ছড়িয়েছে এই মারণ ভাইরাস। শুধু তাই নয়, আমেরিকার তরফেও জানা গিয়েছে, সম্প্রতি চিন ফেরত এক যুবক আমেরিকা ফেরায় তাঁর শরীরেও মিলেছে এই ভাইরাস। ফলে চিন ফেরত বাসিন্দাদের জন্য জারি করা হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ দিন ধরে চিনের বাসিন্দা এক ভারতীয় মহিলাও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যার জেরে নড়ে চড়ে বসেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রকও। অসামরিক বিমানমন্ত্রককে অনুরোধ করা হয়েছে দেশের বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যেমন দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও কোচিনের কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে যাতে তারা বিদেশ থেকে আগত পর্যটকদের খুঁটিয়ে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে।

কী এই করোনাভাইরাস?

করোনাভাইরাসের যে ধরনটি চিনে মহামারীর সৃষ্টি করেছে, তার পোশাকি নাম 2019-nCoV। মূলত করোনাভাইরাস সাধারণ সর্দি, জ্বরের জন্য দায়ী। ১৯৬০ সালে এই ভাইরাসের উপস্থিতির কথা জানতে পারেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু চিনে যে ভাইরাস ছড়াচ্ছে তা সম্প্রতিই আবিষ্কার করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা সামুদ্রিক খাবার ও বন্যপ্রাণীদের মাংস থেকেই ছড়িয়েছে।

কিন্তু এই ভাইরাসের ভয়াবহ ব্যাপার অন্যদিকে। সাধারণত ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গুর জীবাণু কোনও বাহকের মাধ্যমে ছড়ায়। এইডসের ভাইরাস যৌন সংসর্গ বা রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়। কিন্তু এই 2019-nCoV ভাইরাস মানুষের নিঃশ্বাসের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। ফলে খুব ধ্রুত চিনে এই ভাইরাসের ফলে মহামারীর আকার নিয়ে নিচ্ছে নিউমোনিয়া।

কোথায় কোথায় এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে?

প্রথম এই ভাইরাস ছড়ায় চিনের ইউহান শহরে গত বছরের শেষদিকে। হু’র রিপোর্ট অনুযায়ী চিনে এখনও পর্যন্ত ২১৮ জন আক্রান্ত হয়েছে এই ভাইরাসে। এছাড়া থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াতেও কিছু কিছু আক্রান্তের খবর মিলেছে।

আর এতেই চিন্তিত ভারত। কারণ চিনের মতোই ভারতেও প্রচুর জনসংখ্যা। কোনও কারণে এই ভাইরাস ভারতে এলেই তা ছড়িয়ে পড়বে দ্রুত। ফলে মহামারীর আকার ভয়ানক হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here