মহানগর ওয়েবডেস্ক: বলা হয়ে থাকে, গণতান্ত্রিক দেশে সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা সংক্ষেপে এবিভিপি। বর্তামান শাসক দলের প্রথম সারির বহু নেতা ও মন্ত্রী এই দলের সদস্য হয়েই নিয়েছিল রাজনীতির প্রথম পাঠ। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। আজ ৯ জুলাই, সারা দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে এই ছাত্র সংগঠনের ৭২ তম প্রতিষ্ঠা দিবস।

এবিভিপি’র প্রাক্তনীদের মধ্যে আরও রয়েছেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, রবিশঙ্কর প্রসাদ, গিরিরাজ কিশোর, অশ্বিনী চৌবে এবং পীযুষ গোয়েল, মুখ্যমন্ত্রী শিবারাজ সিং চৌহান (মধ্য প্রদেশ), বিপ্লব দেব (ত্রিপুরা), জয়রাম ঠাকুর (হিমাচল প্রদেশ) এবং বিহারের উপ মুখ্যমন্ত্রী সুশীল কুমার। বর্তমানে সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৩২ লক্ষ। ২০১৫ সালে সদস্য সংখ্যা ছিল ২২ লক্ষ। বিজেপি’র ক্ষমতায় আসা, বহু প্রাক্তনীর নেতা–মন্ত্রী হওয়া, বিজেপি’র একক ভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ ইত্যাদি বিভিন্ন কারণেই এই ছাত্র সংগঠনের সদস্য সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছ।

১৯৪৮ সালে একদল ছাত্র ও শিক্ষকের মিলিত প্রচেষ্টায় তৈরি হয় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। যদিও নিয়মমাফিক এই সংগঠনের রেজিস্ট্রি হয় ১৯৪৯ সালের ৯ জুলাই। শিক্ষাঙ্গনে জাতীয়তাবাদী মানসিকতার প্রচারই ছিল সংগঠনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য। এই সময় সমস্ত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রায় একতরফা ভাবে প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিল কমিউনিস্ট ভাবাদর্শে উদ্দীপ্ত ছাত্ররা। এবিভিপি’র আত্মপ্রকাশেরও তিন বছর পর আরএসএস নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক সংগঠন ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয় যা ১৯৭৭ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি নামে পুনর্গঠিত হয়েছিল।

এবিভিপি’র প্রাণপুরুষ বলা হয় প্রাক্তন আরএসএস প্রচারক যশবন্ত রাও কেলকারকে যিনি মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। এবিভিপি’কে সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার কৃতিত্বও কেলকারের। প্রথমদিকে আরএসএস সংযুক্ত ছাত্ররাই এই সংগঠনের সদস্য হলেও পরবর্তী সময়ে বিপুল সংখ্যায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত নয় এমন ছাত্ররাও সংগঠনে যুক্ত হতে থাকে। বর্তমানে ৪৫০০ শহর ও শহরতলিতে এবিভিপি’র শাখা রয়েছে।

এবিভিপি’র বৈশিষ্ঠ হল, অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের মতো এরা শুধু কলেজ ক্যাম্পাসে আবদ্ধ থাকে না। সারা দেশ জুড়ে জেলা স্তরে এবিভিপি ছোট ছোট ইউনিট খুলে পড়ুয়াদের করোসপন্ডেন্স কোর্স করতে সাহায্য করে। এই কারণেই সদস্য সংখ্যার দিক থেকে এবিভিপি অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের থেকে এতটা এগিয়ে যেতে পেরেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here