kolkata news
Parul

নিজস্ব প্রতিনিধি লকডাউনের জেরে বাস বন্ধ দীর্ঘ দিন। দায় হয়ে উঠেছিল সংসার চালানোই। অনটনের সংসার কীভাবে চলবে ভেবে পাচ্ছিলেন না পেশায় বাসচাসক রঞ্জিত সাউ। শেষমেশ প্রিয় বাসের চালকের আসনে বসেই জীবনের ছন্দে দাঁড়ি টেনে দিলেন বছর বাহান্নর ওই প্রৌঢ়। ঢাকুরিয়া ব্রিজের কাছের ওই ঘটনায় সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবন জীবিকা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

ads

করোনা অতিমারীর কারণে গতবছর দীর্ঘ দিন বন্ধ ছিল বাস চলাচল। চলতি বছর দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় ফের থমকে যায় বাসের চাকা। দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা লাগে সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবন জীবিকায়। পেশায় বাসচালক রঞ্জিত সাউ ছিলেন এঁদেরই একজন।

৩৭ নম্বর রুটের বাসের চালক ছিলেন রঞ্জিত। বাস চালাতে ভালোবাসতেন। অন্য কোনও কাজ না জানায় বাস চালানোকেই পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন তিনি। বাসের আয়েই চলত সংসার। করোনার প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কা সামলে যখন ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করেছিলেন রঞ্জিত, ঠিক তখনই এসে পড়ে দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা। এই ধাক্কা আর সামলাতে পারলেন না বছর বাহান্নর ওই প্রৌঢ়। বাস বন্ধ থাকায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল রোজগার। সংসারের জোয়াল কীভাবে টানবেন, তা ভেবে কূল পাচ্ছিলেন না। শেষমেশ হয়তো সিদ্ধান্ত নেন জীবন থেকে ছুটি নিয়ে নেওয়ার। এদিন সকালে বাসের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় রঞ্জিতের দেহ। একমাত্র রোজগেরে সদস্যের মৃত্যুতে শোকের ছায়া সাউ পরিবারে।

করোনা অতিমারীতে সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে হাজার হাজার মানুষের। বে-রোজগেরে হয়েও অনেকে বেছে নিয়েছেন আত্মহত্যার পথ। অকালে জীবনে দাঁড়ি টেনে দিয়ে যাঁরা আসলে একটা শিক্ষা দিয়ে গেলেন গোটা সমাজকে। প্রশ্ন তুলে দিলেন, কর্মহীন হলে পেট চলবে কীভাবে? বচ্ছরভর রোজগারের নিশ্চয়তাই বা মিলবে কবে?  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here