news bengali kolkata

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝাড়গ্রাম: করোনা ঠেকাতে গোমূত্র পান করেছিলেন ব্যক্তি। আর এরপরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। অসুস্থকে ঝাড়গ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

করোনা প্রতিষেধক হিসেবে গোমূত্র পান করার নিদান দিয়েছে হিন্দু মহাসভা। হয়েছে গোমূত্র পার্টি। বিজেপির পক্ষ থেকেও করোনা দাওয়াই হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় গোমূত্র পান করতে বলা হয়েছে। আর তা দেখেই করোনা ঠেকাতে ওই যুবক নিজে গোমূত্র পান করেছিলেন। তারপরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি।

অসুস্থ শিবু গড়াই (৪২) ঝাড়গ্রাম জেলার শহরের জামদা (৪ নম্বর) ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী। ১৫ দিন আগে মায়াপুর গিয়েছিলেন তিনি। ফেরার সময় চড়া দামে কিনে আনেন গোমূত্র। করোনা আতঙ্কে তাই পান করেছিলেন। গোমূত্র বিজেপির প্রচার হলেও প্রাণ বাঁচাতে তাই গলায় ঢেলেছিলেন তৃণমূল কর্মী। তারপরেই সুস্থ ব্যক্তি হয়ে পড়েন অসুস্থ।

মঙ্গলবার বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, ‘সকলেই গোমূত্র খান। আমিও খেয়েছি। আবার খাব’। বলেন, প্রয়োজনে সকলেই খাবেন বলে দাবি করেন সাংসদ। বলেন, গোমূত্র কার্যকরী ওষুধ। তা শুনে মানস ভূঁইয়া কটাক্ষ করে বলেন, ‘ওনার চিকিৎসার প্রয়োজন’। পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখার্জির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিজেপির নাম না করে তিনি বলেন, ‘আফ্রিকার জঙ্গলের অনুকরণে এইসব করা হচ্ছে। ওরা এসব খাক।’ আর সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে কী না সেই উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা ভুল বোঝার তাঁরা বুঝবেন।’

news bengali kolkata

ডাঃ অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, যে কোনও রোগ বা ভাইরাস ঠেকানোর জন্য কয়েক মাস বা বছর গবেষণা করে তবে তার প্রতিষেধক বাজারে আনা হয়। কারও অযৌক্তিক বক্তব্য বা প্রচার শুনে এই নিয়ে মাতামাতি করা মানে সমাজকে পিছিয়ে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ক্লোরোকুইন (ম্যালেরিয়া চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়), রিটোন্যাভির ও লোপিন্যাভির (এইচআইভি চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়), অফেল্টামিভির (সোয়াইন ফ্লু চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়) – এই চারটি ওষুধ নিয়ে গবেষণা চলছে। করোনা প্রতিষেধক কী না তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডাক্তার বলেন, অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রোগ সারানোর বা রোগ প্রতিরোধের কথা বলা মানে সভ্যতাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া। ডাক্তারদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, অপরিশোধিত গোমূত্র পান করলে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

জোড়াসাঁকোতে গেরুয়া শিবিরের উদ্যোগে গো মাতা পুজো করে মূত্র পান করানো হয় করোনা দাওয়াই হিসেবে। পুলিশকেও পান করানো হয় গোমূত্র। যদিও পরে ওই পুলিশকর্মী এফআইআর করে থানায়। দাবি করা হয়, তাঁকে চরণামৃত বলে গোমূত্র খাওয়ানো হয়েছে। অবশ্য অনেকেরই দাবি, তিনি জেনেশুনেই গোমূত্র পান করেছিলেন। পরে পরিস্থিতির চাপে তা অস্বীকার করতে বাধ্য হন। করোনা প্রতিষেধক দাবি করে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই শিবির করে হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাওয়ানোর খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেই শিবির বন্ধ করে দেয়। হুগলির ডানকুনির গোবর-গোমূত্র বিক্রতাকেও গ্রেফতার করা হয়। তবে করোনা ঠেকাতে গোমূত্র বলে প্রচার চালানো ও পান করানোর গেরুয়া শিবিরের ওপর নজর কেন নেই রাজ্য সরকারের পুলিশের, তা নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন।

গোমূত্রের কার্যকারিতা নিয়ে দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের পরের দিনেই অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটল ঝাড়গ্রামে। এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে চাঞ্চল্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here