news bengali

মহানগর ওয়েবডেস্ক: শরীরে মারণ করোনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর তিলকনগরের বাসিন্দা বছর ৫০-এর এই অটোরিকশা চালক। ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি বিশেষ খাওয়া দাওয়া করতেন না, অল্পই খেতেন। কিন্তু হঠাৎ খুব খিদে পেয়েছে বলে একটা ইডলি ছিলেন তিনি। তারেই আর্জিতে বেশ অবাকই হয়েছিলেন হাসপাতালে কর্মীরা। যদিও শেষবার ইডলি খেতে পাননি তিনি। হাসপাতালের আটতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই অটোরিকশা চালক।

গত ২৪ এপ্রিল করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সেই দিনই তার সঙ্গে ভর্তি হয়েছিলেন অন্য এক মহিলা। গত রবিবার সেই মহিলার মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই কিছুটা মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন ওই রিকশাচালক। তুলনামূলকভাবে তারও একই উপসর্গ ছিল মহিলার মত। এই বিষয়টি তাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তখনই হয়তো তিনি মনে মনে ঠিক করে নিয়েছিলেন এই জীবন তিনি আর রাখবেন না। কিন্তু শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী একটা ইডলিও যে জুটবে না তার, সেটা হয়তো তিনি ভাবেননি।

যে হাসপাতাল কর্মীর কাছে তিনি একটা ইডলি চেয়েছিলেন, তিনি তা দিতে রাজি হননি। সে বেরিয়ে যাওয়ার পরেই ওই রিকশাচালক আইসিইউ থেকে বেরিয়ে হাসপাতালে আটতলা থেকে ঝাঁপ দেন। বীভৎস এক আওয়াজ পেয়ে হাসপাতালে অন্যান্য কর্মীরা ছুটে এসে দেখেন, টিনের চালের উপর তার রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। তবে তিনি যে একটা ইডলির জন্য আত্মহত্যা করেছেন এটা ভাবা ভুল।

তিনি বিয়ে করেননি, তিনি যে অঞ্চলে থাকেন সেই অঞ্চলের মানুষেরা তাকে অভিশাপ দিচ্ছেন! ওই রিক্সাচালক ঠিক এমনটাই জানিয়েছিলেন তার ওয়ার্ডে থাকা অন্যান্য রোগীদের। এর থেকেই তারা বুঝতে পেরেছিলেন তিনি কিছুটা মানসিক অবসাদে ভুগছেন। তার ওপর করোনা আক্রান্ত ওই মহিলার মৃত্যু তিনি মেনে নিতে পারেননি একেবারেই। যার পরবর্তী ক্ষেত্রেই আত্মহত্যা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here