ডেস্ক: ধর্ম পরিবর্তন করে কোনও লাভ হয়নি। বিয়ে করেও একসঙ্গে থাকার অনুমতি পেল না ছত্তিশগড়ের এই হিন্দু দম্পতি। নিজের বান্ধবী অঞ্জলি জৈনকে বিয়ে করার জন্য মোহাম্মদ ইব্রাহিম সিদ্দিকি নামে ওই যুবক নিজের নাম পরিবর্তন করে আরিয়ান আরিয়া করেছিল। তাঁরা ভেবেছিল এরপর হয়তো সব কিছুই ঠিক হয়ে যাবে। কোনও রকম সমস্যা আর থাকবে না। কিন্তু ব্যাপারটা আরও জটিল হয়ে পড়ে যখন মেয়েটির বাবা তাঁকে আটকে রাখে এবং তাদের এই সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকার করে। এই ঘটনার পরই ইব্রাহিম সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হয় নিজের স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার জন্য।

সূত্রের খবর, ২০১৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রায়পুরের একটি মন্দিরে হিন্দু রীতি মেনে অঞ্জলি এবং ইব্রাহিম বিয়ে করে। আর এরপরেই ইব্রাহিম তার নাম পরিবর্তন করে আরিয়ান আরিয়া গ্রহণ করে এবং সেই সঙ্গে নিজেকে মুসলিম থেকে হিন্দু ধর্মে পরিবর্তিত করে। তাঁদের দুজনের বিয়ের ঘটনা কোনও ভাবে অঞ্জলির বাবা জানতে পেরে যায়। মূলত সেখান থেকেই এই ঝামেলার সূত্রপাত। ইব্রাহিম ওরফে আরিয়ানের অভিযোগ, তাঁর স্ত্রীকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে। তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। ইব্রাহিম আরও অভিযোগ করেন যে, তিনি এবং তাঁর স্ত্রীর জীবন সুরক্ষিত নয়। যেকোনো সময় কোনও অঘটন ঘটে যেতে পারে। একের পর এক হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাকে। তিনি এও বলেন যে, তার স্ত্রী হাইকোর্টে জানিয়েছে সে একজন পূর্ণ বয়স্ক এবং সেচ্ছায় এই বিয়ে করেছে। হাইকোর্ট তাকে নির্দেশ দিয়েছে যে, সে এখন থেকেই তাঁর বাবা ও মায়ের সঙ্গে থাকবে বা হোস্টেলও থাকতে পারে পড়াশুনার জন্য। আর হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই ইব্রাহিম ওরফে আরিয়ান সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় ও প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ছত্তিশগড়ের হাইকোর্টের থেকে মতামত জানতে চেয়েছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here