নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাল: পরপর কন্যাসন্তান আর তার জেরে নারকীয় অত্যাচার লেগেই থাকত গৃহবধূর উপর। নিত্যদিনের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অবশেষে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করল গৃহবধূ। শনিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানার রাধাকৃষ্ণ পুর গ্রামে। ঘটনার জেরে ওই গৃহবধূর স্বামী উজ্বল সিংকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, পরপর দুটি কন্য সন্তান হওয়ায় ওই মহিলার ওপর রোজই অত্যাচার করত তার স্বামী। এরপর শনিবার বিকেল নাগাদ বাড়ির শৌচাগারে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার জেরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। স্থানীয়দের ধারনা, নিত্যদিনের অত্যাচারের মাত্রা গৃহবধূটির সহ্যের বাইরে চলে যাওয়ায় ফলেই আত্মহত্যা করেছে সে।

পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, গড়বেতা থানার দূর্লভগঞ্জ এলাকার শীতল দাসের এক মাত্র মেয়ের তনয়ার বিবাহ হয় ১৩ বছর আগে দাসপুর থানার রাধাকৃষ্ণ পুর গ্রামের উজ্বল সিং এর সাথে। তনয়ার দশ ও বারো বছরের দুটি কন্যা সন্তান আছে। শনিবার তনয়ার সিং(৩৪)য়ের ঝুলন্ত মৃত দেহ উদ্ধার হয় বাড়ির শৌচাগার থেকে। ঘটনার পর মৃতের বাবা দাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন উজ্বল সিংয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে উজ্বলকে।’ এদিকে, মৃতের বাবা শিতল দাস বলেন, ‘আমার মেয়ে মাঝেমধ্যে আমাদের বলতো দুই মেয়ে হওয়ায় আমার স্বামী প্রায়শই মদ খেয়ে এসে আমাকে প্রচুর পরিমানে মারধোর ও গালিগালাজ করে। আমায় বলে তোর শুধু মেয়ে হল, ছেলে হোল না কেন? তুই আমার বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যা, মরতে পারিস না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করছি আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য উজ্বল ও তার পরিবারের লোক দায়ী পুলিশ কে সমস্ত বিষয় লিখিত ভাবে জানিয়েছি আমরা চাই পুলিশ অভিযুক্তকে শাস্তি দিক। মৃতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার রাতেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে উজ্বল সিংকে। রবিবার ধৃতকে ঘাটাল আদালতে তোলা হলে, আদালত ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here