tmc bjp
সুখের সে সময়।
tmc bjp
সুখের সে সময়।

মহানগর ডেস্ক: কোনও প্রমাণ ছাড়াই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে তোলাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে শুভেন্দু অধিকারীকে আইনি নোটিস পাঠালেন অভিষেক।

বৃহস্পতিবার তিনি এই আইনি নোটিস পাঠান। প্রকাশ্যে ‘তোলাবাজ ভাইপো’ বলায় শুভেন্দু অধিকারীকে আইনি নোটিস পাঠান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। না হলে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে আইনজীবীর মাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিষেক।

মেদিনীপুরে অমিত শাহের সভায় বিজেপিতে যোগ দিয়ে ওই মঞ্চ থেকেই শুভেন্দু স্লোগান তুলেছিলেন, ‘তোলাবাজ ভাইপো’ হঠাও। তবে অভিষেকের নাম করেননি তিনি। জবাবে প্রায় প্রতিটি সভায় অভিষেক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘‘ভয়ে তাঁর নাম নিতে পারেন না কেউ। তাই ‘তোলাবাজ ভাইপো’ বলেন। চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন, সাহস থাকলে কেউ তাঁর নাম নিয়ে দেখান।’’ এর পর মঙ্গলবার খেজুরির সভা থেকে শুভেন্দু রীতিমতো নাম করে বলেন, ‘‘তোলাবাজ ভাইপো অভিষেক হঠাও।’’ তার পরেই আইনি পদক্ষেপ করলেন অভিষেক।

খেজুরির ওই সভার কথা উল্লেখ করে আইনজীবী সঞ্জয় বসুর মাধ্যমে পাঠানো নোটিসে অভিষেক পাল্টা শুভেন্দুর বিরুদ্ধেই সারদা ও নারদা কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন। সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেনের একটি চিঠি ওই নোটিসের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে। নোটিসে বলা হয়েছে, ‘সারদা চিট ফান্ড কেলেঙ্কারিতে সাজাপ্রাপ্ত সুদীপ্ত সেন তাঁর চিঠিতে আপনার বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। নারদা কাণ্ডেও ভিডিয়ো ফুটেজে আপনাকে ঘুষের টাকা নিতে দেখা গিয়েছে’। নোটিসে শুভেন্দুকে আক্রমণ করে বলা হয়েছে, ‘আপনার নিজের কুকীর্তি চাপা দিতেই আমার মক্কেলের উদ্দেশে মিথ্যে, অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর বিবৃতি দিয়েছেন। তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে আপনি ভয় পাচ্ছেন। আপনি দিবাস্বপ্ন দেখছেন এবং নিজে যা করেছেন, অন্যের মধ্যেও তাই দেখছেন।’’

দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির পক্ষ থেকে ‘ভাইপো’ বলে আক্রমণ করা হচ্ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুভেন্দু দলে যোগ দেওয়ার পর সেই স্লোগান পাল্টে হয়েছে ‘তোলাবাজ ভাইপো’। অভিষেকের চ্যালেঞ্জের পর বিজেপির কয়েক জন নেতা তাঁর নাম করেও বলেছেন। কিন্তু এই প্রথম ‘তোলাবাজ ভাইপো’ বলায় শুভেন্দুর বিরুদ্ধে আইনি নোটিস পাঠালেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক।

‘তোলাবাজ ভাইপো’ বলার পাশাপাশি শুভেন্দু ওই সভায় অভিষেকের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, গরু, বালি ও মানুষের অঙ্গ পাচারের মতো অভিযোগও এনেছিলেন। এ ছাড়া তিনি বলেন, নিজের কোনও জনভিত্তি নেই, অন্যের কাঁধে ভর দিয়ে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে জিতেছেন অভিষেক। সারদা ও নারদা কেলেঙ্কারিতে প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কেডি সিংহের সঙ্গে আঁতাঁতের অভিযোগও এনেছিলেন শুভেন্দু। সেই সব মন্তব্য উল্লেখ করে উল্লেখ করে নোটিসে বলা হয়েছে, এর সঙ্গে সত্যের কোনও যোগ নেই। কে ডি সিংহ প্রসঙ্গে অভিষেকের বক্তব্য, তৃণমূল নেতা হিসেবে শুভেন্দুর সঙ্গে যেমন কেডি সিংহের সম্পর্ক ছিল, তেমনই ছিল অভিষেকের সঙ্গেও। এই সব অভিযোগের মাধ্যমে আসল সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা বলেও উল্লেখ করা হয়েছে নোটিসে। অভিষেকের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে হতাশ হয়েই এই সব অভিযোগ এনেছেন শুভেন্দু— বলা হয়েছে নোটিসে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here