ডেস্ক: ‘আমি গর্বিত এ রাজ্যের প্রার্থী হতে পেরে। রবীন্দ্রনাথ স্বামীজির জন্মভূমী এই বাংলা, এরাজ্য প্রকৃতই বিজেপি বিরোধী। আমাকে সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আশা করি আগামী দিনেও এমনই সাহায্য পাব।’ কংগ্রেসের তরফে পশ্চিমবঙ্গ থেকে পঞ্চম আসনে রাজ্যসভার প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর শনিবার বিধান সভায় উপস্থিত হয়ে এমনটাই জানালেন অভিষেক মনু সিংভি।

এদিন সাংবাদিকদের অভিষেক জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। একইসঙ্গে এটাও জানিয়ে রাখেন, তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট হয়ত নেই, তবে সংসদে ইস্যুভিত্তিক সমন্নয় থাকবে দুই দলের। এদিন বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও করেন তিনি। প্রসঙ্গত, বামেরা মুখ ফেরানোর পর রাজ্যসভায় দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে তৃণমূলের হাত ধরেছে কংগ্রেস। বিধায়ক সংখ্যার বিচারে এরাজ্য থেকে পাঁচটি শূন্য আসনের মধ্যে চারটিতে তৃণমূল ও একটিতে কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত। তবে শুক্রবার বামফ্রন্ট প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ভোটাভুটি অনিবার্য হয়ে পড়ল। শুক্রবার রবীন দেবকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসাবে বেছে নিয়েছে বামফ্রন্ট।

২৩ মার্চ রাজ্যসভার নির্বাচন। এই নির্বাচনে এবারে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় খালি হয়েছে ৫ টি আসন। তৃণমূলের এই চার প্রার্থীর জয় নিশ্চিত। এই মুহূর্তে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ২১৩। চার প্রার্থীকে জয়ী করার পর আরও বেশ কিছু ভোট থাকবে তৃণমূলের হাতে। সেখানে কংগ্রেস প্রার্থী তথা বিখ্যাত আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভিকে পঞ্চম আসনে সমর্থন করার ঘোষণাও করেন মমতা। এরপরই এদিন বিধানসভায় উপস্থিত হয়ে তাঁকে সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শনিবার তার সঙ্গে দেখা করবেন তিনি।

উল্লেখ্য, এবারের রাজ্যসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভায় যেতে চলেছেন শুভাশিস চক্রবর্তী, আবির বিশ্বাস ও শান্তনু সেন। সেই সঙ্গে রয়ে গেলেন গতবারের রাজ্যসভার সদস্য নাদিমুল হকও। নতুন তিন মুখের মধ্যে প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তনী আবির সর্বকনিষ্ঠ। তাঁর বাবা তৃণমূলের প্রয়াত সংসদ সদস্য আনন্দমোহন বিশ্বাস। আবির ২০১১ সালে বিধায়ক হলেও ২০১৬ সালে রানাঘাট পূর্ব থেকে পরাজিত হন। পেশায় আইনজীবী, দলের শ্রমিক শাখার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সভাপতি শুভাশিস ১৯৮৪ সাল থেকে ছাত্র পরিষদের কর্মী হিসেবে মমতার অনুগত ছিলেন। শান্তনু সেন পেশায় চিকিৎসক, কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলার। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য শাখার সম্পাদক শান্তনু সেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here