ডেস্ক: গত সোমবার রক্তক্ষয়ী পঞ্চায়েত ভোটের সাক্ষী থেকে ছিল গ্রাম বাংলা৷ ভোটকে কেন্দ্র করে জেলায় জেলায় লাগামহীন সন্ত্রাসের ছবি উঠে এসেছে৷ মৃত্যুর মিছিল দেখেছে এই রাজ্যের মানুষ৷ এবার পঞ্চায়েত ভোটের অশান্তি কার্যত অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে৷ আর সেই কারণেই চব্বিশ ঘন্টার ব্যবধানে ৫৭৩টি বুথে পুর্ননির্বাচন হচ্ছে৷ সকাল থেকেই শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ পর্ব৷ পুর্ননির্বাচনেও সন্ত্রাসের সেই চেনা ছবি উঠে এসেছে৷ পুলিশ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে৷ তবে বেশকিছু জায়গায় ধরা পড়েছে ব্যতিক্রমী ছবিও৷ উত্তর চব্বিশ পরগনার আমডাঙায় গত সোমবার পঞ্চায়েত ভোটের দিন ব্যাপক বোমাবাজি হয়েছে৷ মুড়িমুড়কির মতো বোম পড়ছে গোটা এলাকায়৷ ভোটাররা ভয়ে বুথমুখো হতে পারেননি৷ বহিরাগত দুস্কৃতিদের তাণ্ডবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল এলাকা। আমডাঙার পাঁচপোতায় প্রাণহানির ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছিল৷ মৃত্যু হয়েছিল এক সিপিএম কর্মীর। কিন্তু বুধবার পুননির্বাচনের একেবারে অন্য ছবি ধরা পড়ল আমডাঙায়। পুলিশি নিরাপত্তায় কার্যত দুর্গের চেহারা নিয়েছে আমডাঙা৷ বুথের আশাপাশে মাছি পর্যন্ত গলতে দেয়নি পুলিশ৷ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে এখানে৷

বহিরাগতদের দৌরাত্ম ঠেকাতে বুধবার সকাল থেকেই সক্রিয় ছিল পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিস সুপার অভিজিতৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এলাকায় কড়া টহলদারি চালানো হয়৷ অপরিচিত, সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই প্রকৃত পরিচয় জানতে চেয়ে চলেছে জিজ্ঞাসাবাদ। সন্দেহজনক বেশকিছু বাইকের পিছনে ধাওয়া করে পুলিশ। বহিরাগত সন্দেহে কাঁচরাপাড়া থেকে আসা তিনজনকে আটকও করা হয়েছে৷

অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গাতেও পুলিশ ছিল বেশ তৎপর। এই এলাকার যে যে বুথে ভোট গ্রহণ হয়েছে সেখানে সকাল থেকেই ‘দাবাং’ মেজাজে দেখা গিয়েছে পুলিশকে৷ জমায়েত তো দূরের কথা, বহিরাগত দেখলেই তাড়া করেছে পুলিশ৷ কোচবিহারের দিনহাটাতেও পুলিশ দুর্দান্ত ভূমিকা পালন করেছে৷ পুলিশের তাড়া খেয়ে অস্ত্র ফেলে দৌড় দেয় দুষ্কৃতীদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here