নিজস্ব প্রতিবেদক, সিউড়ি: নির্মল মণ্ডলের পর এবাত টলিউড অভিনেতা সুমন ব্যানার্জি। ফের হাঁটা দিলেন সেই একই পথে। শাসক শিবিরের উদ্দেশ্যে হুমকি ধমকি বর্ষ্ণ। স্বাভাবিক ভাবেই নির্মলের মত সুমনের বক্তব্য নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংবাদমাধ্যমে জল ঘোলা হতে বেশি সময় লাগেনি। বিতর্ক বেঁধেছে সুমনের বক্তব্য নিয়ে। এতে বিজেপি কর্মী শিবিরদের একাংশ বেশ চাঙ্গা হলেও গেরুয়া শিবিরের অপর অংশ কিন্তু প্রশ্ন তুলেছে লাগাতার হুমকি ধমকি দেওয়া হলে আমজনতা কি তা ভালো চোখে নেবে? দল সম্পর্কে সাধারন মানুষের কাছে কোন ভুল বার্তা যাবে না তো? যদিও কি বা জেলা বিজেপি নেতৃত্ব কি রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব, কেউই এই ধরনের মন্তব্য নিয়ে মাথা ঘামাতে চাইছে না। তারা না নির্মল মণ্ডলের বক্তব্য নিয়ে সরব হয়েছেন না সুমনের বক্তব্য নিয়ে কিছু বলেছেন।

বীরভূম জেলার নানুরে বিজেপি কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে সপ্তাহব্যাপী প্রতিবাদ ধর্না শুরু করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাতে জেলা বিজেপির নেতারা যোগ দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্য বিজেপির নেতারাও আসছেন যোগ দিতে। সেখানেই গত বুধবাত জেলা বিজেপির লিগ্যাল সেলের নেতা নির্মল মণ্ডল লাভপুরের তৃণমূল নেতা আব্দুল মান্নানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ও সিপিএম করত, টাকা কামানোর জন্য, সেখান থেকে এল ফরওয়ার্ড ব্লকে। ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে এল তৃণমূলে। এখন যত কুকীর্তি হয় ওই করে। আমি মান্নানকে হুঁশিয়ারী দিচ্ছি তোমাকে ওই লাভপুর থানার সামনে ফেলে মারব, পিটিয়ে মারব। সেই দিন তোমাকে কেউ বাঁচাবে না। এই এসপিও তোমাকে বাঁচাতে যাবে না।’ নির্মলবাবুর এই বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক বাঁধতে দেরি হয়নি।

বৃহস্পতিবার সেই একি ধর্না মঞ্চ থেকে বিজেপি–র টলিউড বাহিনীর অন্যতম মুখ সুমন ব্যানার্জি বলে, ‘দলের ওপরতলা সবুজ সঙ্কেত দিলে রাজ্যের সমস্ত তৃণমূল পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে মাঠ করে দেওয়া হবে। আপনারা দিকে দিকে আমাদের পার্টি অফিস দখল করছেন, করুন। আমরা তো নবান্ন দখল করব। আর আমাদের ওপর মহল যদি একবার হ্যাঁ বলে দেয়, চ্যালেঞ্জ করে বলছি, পশ্চিমবঙ্গে একটাও তৃণমূল পার্টি অফিস থাকবে না, গুঁড়িয়ে মাঠ করে দেব, ওখানে ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট হবে মহালয়ার দিন।’‌

kolkata bengali news

অভিযোগ উঠেছে সুমন শুধু তৃণমূলকেই হুমকি দেয়নি, দিয়েছেন পুলিশকেও। পুলিশকে উদ্দেশ্য করে সুমন বলেন, ‘‌সব পুলিশ খারাপ নয়, কিন্তু যে পুলিশ তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে, জেনে রাখুন, আমরা ক্ষমতায় আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের বদলি করব। এখান থেকে কোচবিহার বদলি করব। কোচবিহার পৌঁছেই জানতে পারবে, বদলি করা হয়েছেন সুন্দরবনে। একইভাবে সুন্দরবন থেকে পুরুলিয়ায়। এভাবেই দু–মাস শুধু পথে-ঘাটে ঘোরাব।’ এরপরই তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যদি প্রশাসন আপনি সামলাতে না পারেন তাহলে চ্যালেঞ্জ করে বলছি দু’ঘণ্টার জন্য পুলিশ তুলে নিন, পশ্চিমবঙ্গকে আমরা সামলে নেবো’ এখানেই শেষ নয় তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি দুষ্কৃতীদের কিভাবে শায়েস্তা করতে হয়। এই বীরভূমের মাটিতে গরু মাফিয়া, পাথর মাফিয়া সমস্ত মাফিয়াদের চুলের মুঠি ধরে তুলে নিয়ে আসব।’

এরপর তিনি নাম না করে অনুব্রত মণ্ডল প্রসঙ্গে বলেন, ‘এখানে নাকি বলা হয় ওকে দুটো গাঁজার কেশ দিয়ে দিবি, আর দিদি বলেন উনার মাথায় অক্সিজেন যায় না। ক্ষমতায় আসতে দিন দাদা, অক্সিজেন যাবার যে কটা লাইন আছে সবকটা কেটে দেবো। অক্সিজেন যাবে ওভারফ্লো হয়ে।’ এনআরসি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এনআরসি পশ্চিমবঙ্গে হবেই, তারপর যারা ভারতীয় নয় পেছনে লাথি মেরে দেশ থেকে বের করে দেবো।’

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here