ডেস্ক: সমস্ত ক্ষেত্রে আধার বাধ্যতামূলক। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সুপ্রিমকোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের আধার বাধ্যতামূলক এই সিদ্ধান্তের উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে শীর্ষ আদালত। সেই মামলার শুনানিতে এবার আধার নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুললেন সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। এদিন এই মামলার শুনানিতে তিনি আশঙ্কা করেন, ‘সরকারের হাতে থাকা আধার থেকে তথ্য চুরি হলে তা বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে নির্বাচনের ফলাফলের উপর।

এখনও পর্যন্ত আধার নিয়ে ২৭ টি মামলা দায়ের হয়েছে শীর্ষ আদালতে, যার প্রত্যেকটি মামলা একত্রিত করে চলছে শুনানি। আধার মামলায় এখনও পর্যন্ত বারে বারে পিছু হঠতে হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকে। তবে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতির এই আশঙ্কা খুব স্বাভাবিকভাবে আরও বিপাকে ফেলল কেন্দ্রকে। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে সুপ্রিমকোর্টে আধারের সুরক্ষা নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন পেশ করে আধার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিচারপতির এহেন প্রশ্নে এটাই প্রমান হয়, আধার কর্তৃপক্ষের সেই প্রেজেন্টেশনে বিন্দুমাত্র আস্থা নেই শীর্ষ আদালতের। এমনকি কিছুদিন আগে আধার নিয়ে আদালতের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন আধারের সিইও অজয়ভূষণ পাণ্ডে। তাঁর বক্তব্য ছিল যদি কারও ক্ষমতা থাকে তবে তাঁর আধার তথ্য ফাঁস করে দেখাক। ঠিক তারপরেই ইউআইডিএআই প্রধানের অথেনটিকেশন রেকর্ডের প্রায় ময়নাতদন্ত করে তাঁর রিপোর্ট টুইটারে ফাঁস করে দেন সাইবার সিকিউরিটি অয়ানালিস্ট এবং সফটওয়্যার ডেভলপার আনন্দ বেঙ্কট নারায়ণ। সবমিলিয়ে আধারের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে বারেবারেই উঠে এসেছে প্রশ্নচিহ্ন।

সাম্প্রতিক সময়ে কেমব্রিজ অ্যানালেটিকার থেকে তথ্য চুরি করে তা মার্কিন নির্বাচনে কাজে লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ফেসবুকের বিরুদ্ধে। এমনকি ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস অ্যানালেটিকার সাহায্য নিতে চলেছে বলেও অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। আধার নিয়ে এইপ্রসঙ্গও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে বর্তমান সময়ে। এরই মাঝে আধার নিয়ে আধার নিয়ে শীর্ষ আদালতের এই আশঙ্কা আধারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করল দেশবাসীর কাছে।