মেয়েকে খুন করেছে জামাই! অধীরের শরণাপন্ন মা, মিলল আইনি সহায়তার প্রতিশ্রুতি

0
622
kolkata bengali news, district news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বারাসত: অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে পেটে লাথি মেরে হত্যা করেছে জামাই৷ এব্যাপারে থানায় অভিযোগও দায়ের হয়েছে৷ কিন্তু জামাইকে আইনি শাস্তি দেওয়ার জন্য যে ডাকসাইটে আইনজীবী দিয়ে আদালতে মামলা করা প্রয়োজন- তার সামর্থ্য নেই মৃতের মা মুক্ত বিশ্বাসের৷ তাই পথ না পেয়ে বৃহস্পতিবার জামাইয়ের কড়া শাস্তির দাবিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীর চৌধুরীর শরণাপন্ন হলেন মুক্তদেবী৷ উত্তর ২৪ পরগনার কদম্বগাছির বাসিন্দা এই অসহায় মাকে ফেরাননি বহরম কংগ্রেস সাংসদ৷ ঘটনাটি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তকে কড়া শাস্তি দেওয়ার জন্য নিজের ঘনিষ্ঠ আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছেন অধীর।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর নাম শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস (২২)৷ উত্তর ২৪ পরগনার কদম্বগাছির কদম্বগাছি হেমন্ত বসু নগরের গৃহবধূ শর্মিষ্ঠা পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন৷ স্বামী সুমন মণ্ডলের অত্যাচারেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ৷ শর্মিষ্ঠার মা মুক্ত বিশ্বাসের অভিযোগের ভিত্তিতে বর্তমানে পুলিশ হেপাজতে সুমন৷

মুক্তদেবী পুলিশকে জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই নানা অছিলায় শর্মিষ্ঠার উপর অত্যাচার করত সুমন৷ সংসার টিকিয়ে রাখার দায়ে শর্মিষ্ঠা সমস্ত অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করতেন৷ সম্প্রতি শর্মিষ্ঠা গর্ভবতী হন৷ কিন্তু তারপরেও তাঁর উপর সুমনের অত্যাচার কমেনি৷ এর উপর শর্মিষ্ঠা পাঁচমাসের গর্ভবতী জানা সত্ত্বেও গত মঙ্গলবার সুমন তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে যান৷ এটা শর্মিষ্ঠা মেনে নেননি৷ আর এতেই চটে গিয়ে সুমন শর্মিষ্ঠার পেটে সজোরে লাথি মারে বলে অভিযোগ৷ আচমকা এভাবে আঘাত পেয়ে শর্মিষ্ঠার পেটে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়৷ কিন্তু তাতেও নির্বিকার থাকে সুমন৷ শর্মিষ্ঠাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া দূর অস্ত, তাঁর মায়ের সঙ্গেও দেখা করতে দেয়নি৷ এরপর পেটের যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে শর্মিষ্ঠার মৃত্যু হয়৷ পরে ঘটনাটি জানতে পেরে সুমনের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন শর্মিষ্ঠার মা মুক্ত বিশ্বাস৷

মুক্তদেবীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে সুমন মণ্ডলকে৷ এদিন তাকে বারাসত আদালতে তোলা হয়৷ ভাগ্যক্রমে ওই আদালত চত্বরেই অধীর চৌধুরীর দেখা পান মুক্তদেবী৷ লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে হাতের কাছে পেয়ে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করেননি তিনি৷ মেয়ের হত্যাকারীর যথোপযুক্ত শাস্তি চেয়ে অধীরের শরণাপন্ন হন মুক্তদেবী৷ তাঁকে ফেরাননি অধীর৷ তিনি মুক্তদেবীর কাছে শর্মিষ্ঠার হত্যাকাহিনী শোনেন এবং বিষয়টি দেখার জন্য ঘনিষ্ঠ আইনজীবীদের নির্দেশ দেন৷ মুক্তদেবীকে সবরকম আইনি সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন৷ বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদের এই সাহায্যে আপ্লুত মুক্তদেবী৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here