মহানগর ডেস্ক: দু’দিন আগেই তৃণমূলে যোগ দিয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘হৃদ মাঝারে’ রাখবেন বলেছিলেন। বিখ্যাত কীর্তন গায়িকা অদিতি মুন্সিকেও নিরাশ করেননি মমতা। রাজারহাট-গোপালপুর থেকে ঘাসফুল শিবিরের হয়ে লড়বেন তিনি। কিন্তু অদিতি মুন্সির রাজনৈতিক জীবনের আগেও তাঁর পরিচিতি কীর্তন শিল্পী হিসাবেই।

ছোটবেলা থেকে যৌথ পরিবারে বড়ো হওয়া অদিতির বরাবরের ধ্যান জ্ঞান ছিল তাঁর গান । স্কুল জীবন শুরু হয় দমদম পার্কের আদর্শ বিথীতে।  মাধ্যমিক পাশ করেন অন্নদা সুন্দরী হিন্দু বালিকা বিদ্যাপীঠ থেকে, উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন কৃষ্ণপুর আদর্শ বিদ্যামন্দির থেকে। এর পর রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরাতন গান নিয়ে স্নাতকোত্তর করেন তিনি। ২০১৫ সালে সারেগামাপা নামের এক রিয়ালিটি শো-তে অংশগ্রহণ করেছিলেন অদিতি। প্রথম দিন থেকেই শোয়ে কীর্তনকে তুলে ধরেছিলেন তিনি।দর্শক থেকে বিচারক প্রত্যেকেই মুগ্ধ হন তার কীর্তনে।টেলিভিশনের পর্দায় অদিতির নাম হয় ‘রায় কিশোরী’ । শিবপ্রসাদ-নন্দিতার ‘ গোত্র ‘ ছবিতে কীর্তন গেয়েছেন তিনি। গানের জগতে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন যথেষ্ট। তাঁর ‘হৃদ মাঝারে রাখব’, ‘কুঞ্জ সাজাও গো’-সহ একাধিক কীর্তন গানে আজও বিমোহিত হন বহু শ্রোতা। এবার সেই মানুষের জন্য কাজ করতেই রাজনীতির মাঠে নেমে পড়েছেন তিনি। যদিও রাজনৈতিক মহলে অদিতি মুন্সি পরিচিত তাঁর স্বামীর জন্য। অদিতির স্বামী দেবরাজ উত্তর ২৪ পরগণার জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে টিকিট না পেয়ে ২০১৫ সালের পুর নির্বাচনের আগে কংগ্রেসে যোগ দেন দেবরাজ। বিধাননগর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ভোটে জেতেন তিনি। ভোটগ্রহণের দিন তুমুল অশান্তি হয় ওই এলাকায়। গ্রেফতার হন তিনি। যার জেরে জেলবন্দি থাকতে হয় তাঁকে।

জেল থেকে বেরিয়ে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফের তৃণমূলে যোগ দেন দেবরাজ। কলকাতা লাগোয়া কেষ্টপুর-বাগুইআটি-এয়ারপোর্ট এলাকায় তাঁর ভাল প্রভাব রয়েছে বলেই মনে করেন বহু রাজনীতিবিদ।

তাই অদিতি মুন্সি নামটা নতুন হলেও রাজনীতির সঙ্গে তিনি বহুদিনই জড়িয়ে আছেন। তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণার পরেই স্বামী দেবরাজের পাশাপাশি এবার অদিতিও নেমে পড়লেন সক্রিয় রাজনীতিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here