kolkata news

 

বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা: ঝড়ের পর পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও, এখন জেলা তো দূরস্থান রাজধানী কলকাতার অনেক এলাকাতেও বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হয়নি। অনেকেই পানীয় জলের পরিষেবা না পেয়ে হাহাকার করছেন। দক্ষিণ কলকাতার বহু পাড়া এখনও ডুবে রয়েছে অন্ধকারে,  রাস্তায় পড়ে রয়েছে গাছ, আলো নেই, কোথাও খোলা বিদ্যুতের তার বিপজ্জনক ভাবে ঝুলছে। ফলে বিপদ মাথায় নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। অন্য দিকে, বিদ্যুৎ না থাকায় সমস্যা হচ্ছে মোবাইল চার্জিংয়েরও। বিপর্যস্ত ইন্টারনেট পরিষেবা। চার্জিংয়ের অভাবে মোবাইল ফোন বিকল হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ করা যাচ্ছে না কারও সঙ্গে। বিদ্যুতের অভাবে বিভিন্ন বহুতলে পাম্পের সাহায্যে জল তোলা যাচ্ছে না। বন্ধ কেব্ল  টিভি। চলছে না আলো, পাখা, ফ্রিজ। কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে কলকাতার একাংশের মানুষ। রাস্তায় যে দু’একটি টিউবওয়েল রয়েছে, সেখানে জলের জন্য পড়ছে লম্বা লাইন। ফলে আমপানের তাণ্ডবের পর পাঁচ দিন পার হয়ে গেলেও নাগরিক পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। আমফান নামের এই ঘূর্ণিঝড় আরও অনেক কিছুর মতো মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের দাবির ফানুষকেও উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ।

সেনাবাহিনী নামার পরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সোমবার শহরের যা ছবি দেখা গিয়েছে তা এখনও যথেষ্ট উদ্বেগের। শহরের বিভিন্ন এলাকায় গাছ পড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে এখনও। সেগুলি সরাতে কাজ করছে পুরসভা ও সেনার সঙ্গে কাজ করছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সিভিল ডিফেন্স, দমকল এবং কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। ওড়িশা থেকে শহরে এসেছেন দমকলের কর্মীরাও। তাঁরাও এই বিপর্যয়ে কাজে হাত মিলিয়েছেন। যদিও গত পাঁচ দিন ধরে জল এবং বিদ্যুতের অভাবে শহরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। কেন এত সময় লাগছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।। প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের কাছে, তালতলার সামনে-সহ দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় জল এবং বিদ্যুতের দাবিতে এদিন অবরোধ-বিক্ষোভও হয়। বেহালা, সরশুনা, বেহালা শিবরামপুর এলাকার সারদা পার্ক, সন্তোষপুর, যাদবপুর, টালিগঞ্জে এখনও বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ নেই আনোয়ার শাহ রোড এবং ইএম বাইপাসের একাংশেও। জলকষ্টে ভুগছেন স্থানীয়রা। পুরসভার ১০৩ এবং ১০৪ নম্বর ওয়ার্ডে জল এবং বিদ্যুৎ, কোনওটাই নেই। এলাকাবাসীর তো বটেই ওই এলাকার বয়স্ক নাগরিকেরা বিশেষ করে ভোগান্তি বেড়েছে।

যদিও কলকাতাকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে পুরসভার তরফ থেকে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যে পুর ও নগরোন্নন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। যে সব জায়গায় বিদ্যুৎ নেই, সেখানে যাতে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, তারও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। কর্মীর অভাব থাকলেও মঙ্গলবারের মধ্যে কলকাতার অধিকাংশ এলাকাতে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সি ইএসসি-ও।

অন্যদিকে রাজ্য সরকার নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে সিইএসসি-কে কাঠগড়ায় তুলছে বলে বিজেপি অভিযোগ করেছে। দলের রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেন, সিইএসসির দিকে আঙ্গুল তুলে সরকার দায় এড়াতে চাইছে। বিদ্যুতের দাবিতে মানুষ বাধ্য হয়ে আজ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। ইচ্ছাকৃতভাবেই মানুষকে এভাবে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য সরকার নিজেদের গাফিলতি আড়াল করতে সিএসসির ওপরেই যাবতীয় দায় চাপাচ্ছে। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যের মন্ত্রীরা মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে একটুও চিন্তিত নন। শুধুমাত্র রাজনীতি করছেন। ঘূর্ণিঝড় এবং তার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে আগেই পূর্বাভাস দেওয়া সত্ত্বেও সরকার কোনও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়নি। পূর্বাভাস পাওয়ার পরেই বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে প্রস্তুত রাখা উচিত ছিল। যে ক্লাবগুলিকে সরকার অনুদান দেয়, সেই ক্লাবের প্রতিনিধিরা এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসছেন না কেন সে বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here