kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: ‘এনাফ ইজ এনাফ!’ সিইএসসি কর্তাদের এবার ধমক পুরমন্ত্রীর। পাঁচ দিন কেটে গেলেও শহর তথা জেলার সমস্ত জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ হলো না কেন, সোমবার এই প্রশ্নের উত্তর জানতেই সিইএসসি কর্তাদের পুরভবনে ডেকে পাঠান পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। কলকাতা পুরসভার কনফারেন্স রুমে চলল বিস্তার আলাপ-আলোচনা। তবে আর ধৈর্য ধরতে যে নারাজ পুরসভা, সেকথা এদিন সিইএসসি কর্তাদের স্পষ্ট করে দেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

২০ মে শহরের বুকে ধ্বংসলীলা চালিয়ে গেছে ঘূর্ণিঝড় আমফান। তারপরে কেটে গিয়েছে আরও পাঁচ দিন। তবু বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে শহর ও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায়। এই অবস্থায় জল ও বিদ্যুতের জন্য পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনকে। এই অবস্থায় সিইএসসির ‘ঢিলা ভাব’ যে আর কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না, তা এদিন কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন প্রশাসক তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

এদিন মন্ত্রী বলেন, ‘সিইএসসি আধিকারিকদের আজ পুর ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তারা আরও একটা দিন সময় চেয়েছে। কিন্তু আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি এনাফ ইজ এনাফ। আর কত ধৈর্য ধরব। টেম্পোরারি লাইন কেন জোড়া হলো না!’  অন্যদিকে, সিইএসসি আধিকারিকদের দাবি, ইতিমধ্যেই ৯৫ শতাংশ জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ হয়ে গিয়েছে। বাকি ৫ শতাংশ জায়গায় অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ সংযোগ হয়ে যাবে।

এদিকে বিরোধীদের বক্তব্য, ‘নিজেদের অপদার্থতা লুকোতে এখন সিইএসসিকে বলির পাঁঠা করছে কলকাতা পুরসভা। আসলেই দুর্যোগ মোকাবিলার ব্যর্থতার দায় কলকাতা পুরসভা তথা রাজ্য প্রশাসনেরই। ইতিমধ্যেই এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সরব হন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। একইসঙ্গে সুর চড়িয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বাদ যায়নি প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বও।

যদিও বিরোধীদের উদ্দেশ্যে ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য, ‘এখন রাজনীতি করবেন না। ভোটের সময় যত ইচ্ছা আমাকে গালাগালি দেবেন। সব সর্তকতা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শহরজুড়ে সাড়ে ৫ হাজার গাছ পড়েছে। সেই গাছকে রাতারাতি সরানো সম্ভব নয়। যদি কেউ রাতারাতি সেই গাছ সরাতে পারে তাহলে সে ভগবান।’ তাঁর কথায়, ‘পার্ট টাইম মেয়র এবং ফুল টাইম মেয়র–এর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। শীঘ্রই কলকাতার পুনর্গঠন হবেই। সিইএসসিকে লোক বাড়াতে বলা হয়েছে। সবুজের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মত নিয়ে গাছ লাগানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’ এদিন নগরবাসীকে আশ্বাস দিয়ে প্রশাসক জানান, ‘যে সমস্ত রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল করে সেখানে তাড়াতাড়ি গাছ সরানো হচ্ছে। দুই-তিনদিনের মধ্যেই কলকাতা আরও সচল হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here