news bengali

মহানগর ওয়েবডেস্ক: দেশ জুড়ে করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যেই উত্তর–পশ্চিম ভারতে ঢুকে পড়ল পঙ্গপাল। পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী পঞ্জাবের আটটি জেলাকে সতর্ক করল খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)। পঞ্জাবের ফাজিলকা থেকে ১২৫ কিমি দূরত্বে রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগর জেলার ঘারসানা শষ্য ক্ষেতে গত কয়েকদিন ধরে হামলা চালাচ্ছে পঙ্গপাল। পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী রাজস্থান ও পঞ্জাবের জেলাগুলিই পঙ্গপাল আক্রমণের মূল কেন্দ্র হতে পারে বলে জানানো হয়েছে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা সূত্রে।
পঙ্গপাল একদিনে ১৫০ কিমি দূরত্ব পাড়ি দিতে পারে। সেই কারণেই রাজস্থানের ঘারসানায় পঙ্গপাল হানার খবর জানার পরই পঞ্জাবের ফাজিলকার কৃষকদের সতর্ক করে দেওয়া হয়। কোভিড–১৯ সংক্রমণে ইতিমধ্যে জেরবার পঞ্জাবে এই নতুন উৎপাত চিন্তা বাড়িয়েছে প্রশাসনিক কর্তাদের কারণ রাজ্যে ধান চাষ শুরু হওয়ার মুখে এবং তুলোচাষের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে।

বিগত ছ’মাস ধরে রূপনগর ও বররেকা সহ ফাজিলকা’র গ্রামগুলিতে মাঝেমাঝেই পঙ্গপাল হানা দিয়ে চলেছে। কৃষি সচিব কাহান সিং পান্নু সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ”বিপদ ঘনিয়ে আসছে। আমরা পঙ্গপাল বিভাগের অফিসারদের কর্তব্য ঠিক করে দিয়েছি।” তুলো চাষ শুরু হয়েছে এবং কয়েকদিনের মধ্যেই ধানের চারা জন্মাবে ফলে পঞ্জাবের শষ্যক্ষেত সবুজ হয়ে থাকবে। সেই কারণেই পঙ্গপাল হানার সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে জানান সচিব।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পঙ্গপাল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে বলে জানান পঙ্গপাল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অফিসার গুরবিন্দর সিং। আটটি জেলার ডেপুটি কমিশনারকে পঙ্গপাল আক্রমণ রোখার নির্দেশাবলী পাঠানো হয়েছে। প্রচুর পরিমাণে কীটনাশক মজুত করা হচ্ছে। যদিও মাঠে ভরা ফসল থাকলে যথেচ্ছ কীটনাশক ছড়ানো যায় না। দমকলকে তৈরি রাখা হয়েছে জানিয়ে অফিসার বলেন, কেন্দ্রের কাছে আরও স্প্রে পাম্প চাওয়া হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ঘন ঘন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বৈঠক করা হচ্ছে। হাওয়ার গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। কোভিড–১৯ অতিমারীতে রাজস্বের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তারপর পঙ্গপালের হানা সামলাতে না পারলে রাজ্য গভীর সঙ্কটে পড়বে বলে মন্তব্য করেন গুরবিন্দর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here