নিজস্ব প্রতিবেদক, বিষ্ণুপুর: বাঁকুড়ায় নদীগর্ভ থেকে লুঠ হয়ে যাচ্ছে বালি। প্রশাসনের নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে রাতের অন্ধকারে তো বটেই দিনের আলোতেও চলছে অবাধে বালি লুঠের কারবার। তা নিয়ে প্রশাসনের কাছে জমা পড়ছিল একের পর এক অভিযোগ। প্রতি বছর বর্ষাকালের শুরু থেকেই জেলা প্রশাসনের তরফে নির্দিষ্ট একটি তারিখ ঘোষনা করে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, ওই দিনের পর নদী থেকে আর বালি তোলা যাবে না। এবছর সেই তারিখ ছিল ১৭ জুন। মূলত সরকারের কাছ থেকে ইজারা পাওয়া ঠিকাদাররা জেলার দামোদর, দ্বারকেশ্বর, শালী নদী থেকে বালি তোলার অনুমতি পায়। তাদেরকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ১৭জুনের পর নদী থেকে যেন আর বালি তোলা না হয়। তারপরও জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ আসছিল যে নির্দিষ্ট তারিখ পেরিয়ে যাবার পরেও নদী গর্ভ থেকে তোলা হচ্ছে বালি।

তারই জেরে বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক মানস মন্ডলের নেতৃত্বে প্রশাসনের আচমকা হানায় আটক করা হল আটাশটি ওভার লোডিং বালি ভর্তি গাড়ি। ওই অভিযানের পর দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে স্টক বালি দেখিয়ে মেশিন দিয়ে সরাসরি নদী গর্ভ থেকে ট্রাকে তোলা হচ্ছে বালি এবং অতিরিক্ত বালি বোঝাই করে তা পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে পশ্চিম বর্ধমান, হগলি, পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, কলকাতা সহ দুই চব্বিশ পরগনা জেলায়। কিছু যায় বিহার, অসম, ঝাড়খন্ড মায় ওড়িশাতেও। এবারে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের তরফে সমস্ত নদী ঘাটে সরকারী বরাত পাওয়া এজেন্সি গুলিকে নির্দেশিকা পাঠিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল ১৭ জুনের নির্দেশিকা যেন কঠোর ভাবে মেনে চলা হয়। কিন্তু অভিযোগ, কিছু এজেন্সি সেই নির্দেশ পালন করলেও অধিকাংশ এজেন্সি সেই নির্দেশিকাকে তোয়াক্কা না করে নদী গর্ভ থেকে অবাধে বালি লুটের কারবার চালিয়ে যাচ্ছিল। বেশ কিছুদিন আগে এমনি অভিযোগ পেয়ে বাঁকুড়া মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে বাঁকুড়ার দ্বারকেশর নদের হরিহরপুরে বরাত পাওয়া একটি এজেন্সির ঘাটে অভিযান চালায় এবং হাতে নাতে ধরে বালি লুঠের কারবার। সেই অভিযানে বালি বোঝাই সহ মোট ১২টি লরিকে আটক করা হয় এবং মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here