kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: করোনার বিরুদ্ধে যেভাবে লড়াই করছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা, তাতে তাদের কুর্নিশ জানাচ্ছেন সবাই। এবার সেই চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ উঠল। যার জেরে ১৮ বছরের তরতাজা এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ বাড়ির লোকের। তিন তিনটে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরেও ওই যুবককে ভর্তি করতে পারেনি বাড়ির লোক। শুক্রবার সারাদিন এই হাসপাতাল, ওই হাসপাতাল করে বিকেলে তাকে বাড়ির লোক ভর্তি করতে পারেন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক সময় পার হয়ে গিয়েছে। ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য মরিয়া মা গায়ে আগুন লাকি আত্মহত্যার হুমকি দিতেই ভর্তি নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসায় দেরি হয়ে যাওয়ায় ওই যুবককে বাঁচানো যায়নি বলে দাবি বাড়ির লোকের। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান ওই যুবক।

উত্তর ২৪ পরগনার ইছাপুরের নেতাজিপল্লির বাসিন্দা ওই যুবকের নাম শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বাড়িতে শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তার। বাড়ির লোক দেরি না করে ছেলেকে নিয়ে কামারহাটি ইএসআই হাসপাতালে চলে আসেন। সেখানে তার রক্ত পরীক্ষা করলে দেখা যায় সুগারের মাত্রা খুব বেশি। এরপর সেখানে তাকে ভর্তি না নিয়ে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর কামারহাটির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে শ্বাসকষ্টের সমস্যা শুনে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ভর্তি নেওয়ার অনেক অনুরোধ করলেও কোনও কথায় কর্ণপাত করেনি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ তাকে সাগর দত্ত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর সুরজিৎ দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখা হয় চিকিৎসা না করে। পরে জানানো হয় বেড ফাঁকা নেই বলে।

ওই যুবকের পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, এরপর তারা বাধ্য হয়ে বেলঘরিয়া থানার যোগাযোগ করেন। থানার উদ্যোগে ওই যুবককে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেও একই শুনতে হয় পরিবারের লোকজনকে। বলা হয়, বেড ফাঁকা নেই। চোখের সামনে ছেলেকে মৃত্যুর মুখে চলে যেতে দেখে চুপ করে থাকতে পারেনি মা। এরপর তিনি হাসপাতালে ঢুকে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেন। আর এই হুমকিতে কাজ হয়। ভর্তি নেওয়া হয় ওই যুবককে। শনিবার সকালে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফোন করে জানানো হয় শুক্রবার গভীর রাতে মারা গিয়েছেন শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

মৃত্যুর পরও হয়রানি ছাড়েনি ওই পরিবারের। কোভিড সন্দেহভাজন হওয়ায় শনিবার ওই যুবকের দেহ তুলে দেওয়া হয়নি পরিবারের লোকজনের হাতে। বাড়ির লোকের অভিযোগ, সরকারি-বেসরকারি একাধিক হাসপাতালের গাফিলতির জন্য তাদের ছেলেকে অকালে চলে যেতে হয়েছে পৃথিবী ছেড়ে। এই ঘটনা নিয়ে সরকারি ভাবে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে অনেকেই বলছেন, একটু সহানুভূতিশীল হলে হয়তো বাঁচানো যেত ওই যুবককে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here