kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, শাসন: আবার বাংলায় ২ জনের প্রাণ কাড়ল এনআরসি। শাসন থানার চক আমিনপুরে এনআরসি’র আতঙ্কে মৃত্যু হলো আয়েপ আলির( ৫৫) । গত  দশ দিন ধরে কখনও বিডিও অফিস আবার কখনও  পঞ্চায়েত অফিস সব জায়গায় লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। লাভ হয়নি কিছুই। ৭১ সালের দলিল খুঁজে পাচ্ছিলেন না আয়েপ আলি। ফলে এক সপ্তাহ ধরে খাওয়া দাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তাঁর। শনিবারেও বিডিও অফিসে গিয়েছিলেন আয়েপ, সেখানে গিয়ে দেখেন সবাই প্রায় ৭১ সালের জমির দলিল নিয়ে এসেছে। এরপরেই দুপুরে খাওয়া দাওয়া না করে মন খারাপ করে বসেছিলেন তিনি। এরপর সন্ধ্যা ৬ টা নাগাদ অসুস্থ বোধ করেন। পরিবারের লোকজন তাঁকে বারাসাত জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই মৃত্যু হয় আয়েপের।

পরিবারের দাবি, বিজেপি সরকার যে ভাবে বাংলায় এনআরসি করবে বলছে সেই আতঙ্কে আতঙ্কিত গ্রামবাসী। অনেকেই আবার খাওয়ার দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আরও দাবি করা হয়, আয়েপ আলি গত এক সপ্তাহ ধরে খাওয়া দাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল দুশ্চিন্তায় আর সেই আতঙ্কেই আয়েপ আলির মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে, বসিরহাট মহাকুমার, বসিরহাট ১ নম্বর ব্লকের সোলাদানার গ্রামের বছর ৩৬ এর কামাল হোসেন মন্ডল, পেশায় ইট ভাটার শ্রমিক। বেশ কয়েকদিন ধরে জমির দলিল উপযুক্ত নথি কাগজপত্র নিয়ে চিন্তায় ছিল। কয়দিন ধরে বসিরহাটের বিডিও অফিসে, আসেন তিনি। অনলাইনে নথিপত্র নিয়ে দৌড়েছিলেন নানান দিকে। এমনকি ১ নম্বর ব্লকের সহ-সভাপতি প্রশান্ত ঘোষের কাছে একাধিকবার  যান, তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে আশ্বাস দেন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, এতে ভয়ের কিছু নেই। কিন্তু হতাশাগ্রস্ত হয়ে  রবিবার ভোর বেলায় বাড়ির পিছনে আমবাগানে গলায় গামছার ফাঁস দিয়ে  আত্মহত্যা করে।  শনিবার বিকেল বেলায় কাগজপত্র সঠিক করার জন্য বসিরহাট ১’নম্বর বিডিওর কাছে এসেছিলেন তিনি । তারপর ৭১ সালের আগে জমির দলিল ছিল কিন্তু হতাশাগ্রস্ত, আতঙ্ক, চিন্তা দুর্বিষহ করেছিল মন্ডল পরিবারের। স্ত্রী টুকটুকি বিবি, দুই ছোট পুত্র সন্তান সহ এই শ্রমিক পরিবারের একমাত্র জীবিকা নির্বাহীকে  সারা রাত্রি ধরে চিন্তা, আতঙ্ক, ভয় গ্রাস করেছিল। কামাল হোসেন মন্ডল তার স্ত্রী টুকটুকির সঙ্গে  শনিবার রাত্রে গভীর রাত পর্যন্ত কাগজপত্র নিয়ে আলোচনা করে। রবিবার সকাল বেলা  বাবা শুকুর আলী, বলেন একমাত্র রোজগার শেষ সম্বল শেষ হয়ে গেল। ফুটবলার বাকী বিল্লাহ মন্ডল, প্রথমে দেখতে পান আমবাগানে কামাল হোসেন মন্ডলের  মৃতদেহ ঝুলছে, তারপর বসিরহাট থানায় খবর দিলে,পুলিশ এসে মৃতদেহ  উদ্ধার করে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here