ডেস্ক: এমনিতেই দিনের পর দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে কাশ্মীর উপত্যকা। প্রায় রোজদিনই জঙ্গিদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে সীমান্তে জওয়ানরা শহিদ হচ্ছেন। কিন্তু এরই মাঝে দীর্ঘ ১৩ বছর পর জম্মু-কাশ্মীরে পুরসভা নির্বাচন হতে চলেছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই প্রথম দফার নির্বাচন বয়কট করে দিয়েছে প্রধান দুটি দল ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রায় ৪২২টি পৌরসভার ১১০০টি ওয়ার্ডে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। সোমবার সকাল ৭টা থেকে নির্বাচন শুরু হয়েছে, চলবে বিকেল ৪টে অবধি। এখনও অবধি খবর পাওয়া গিয়েছে যে, মোট ২৯৯০ জন প্রার্থী নির্বাচনী ময়দানে নেমেছেন। এই নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হবে ১৬ অক্টোবর। এই প্রথম কাশ্মীর ঘাঁটিতে পুরসভা নির্বাচনে EVM ব্যবহার কড়া হচ্ছে। নির্বাচন চলাকালীন যাতে কোনও ধরনের ঝামেলার সৃষ্টি না হয়, তার জন্য প্রতিটি বুথে নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার জম্মু কাশ্মীরের রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের দুই কর্মীর জঙ্গি হামলায় মৃত্যুর মাত্র কয়েকঘন্টার মধ্যেই আসন্ন উপত্যকার পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে নমিনেশন প্রত্যাহার করে নেন ১৫ জন প্রার্থী। এই ঘটনার জেরে নতুন করে উপত্যকার জঙ্গি পরিস্থিতি কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে প্রশাসনের। জঙ্গিদের হাতে খুন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ওই প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে স্পষ্ট জানা গিয়েছে স্থানীয়দের তরফে।

সাম্প্রতিক সময়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে একাধিক জঙ্গি সংগঠন। শুক্রবার জম্মু কাশ্মীরের শ্রীনগরে রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের একটি বৈঠকে অতর্কিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হয় দুই দলীয় সদস্যকে। সেই ঘটনার আতঙ্ক এখনও অবধি পিছু ছাড়ছে না উপত্যকার রাজনৈতিক সংগঠনগুলির নেতাকর্মীদের। পঞ্চায়েত ভোটের আগে যারা যারা মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন তাঁদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে জঙ্গিদের তরফে। আর তার জেরেই প্রাণ বাঁচাতে একের পর এক মনোনয়ন প্রত্যাহার হচ্ছে ভোটের আগে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here