দাবি পূরণে ৩ মাসের সময়সীমা, হুঁশিয়ারি দিয়েই অনশন তুললেন পার্শ্বশিক্ষকরা

0
bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বুধবার পার্শ্বশিক্ষকদের বৈঠক হলেও, সেই বৈঠকে শিক্ষকদের দাবি মেনে নেননি শিক্ষামন্ত্রী। তবে আশ্বস্ত করেছিলেন পার্শ্বশিক্ষকদের স্থায়ী করার দাবি মন্ত্রীসভার বৈঠকে তুলবেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রীর সে প্রতিশ্রুতির পর বৃহস্পতিবার অনশন তুলে নিলেন পার্শ্বশিক্ষকরা। তবে দাবি দাওয়া মেটানোর জন্য ৩ মাসের সময় দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে। দাবি পূরণ না হলে ফের অনশনে বসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষকরা। এদিকে দীর্ঘ ২৮ দিন পর অবশেষে অনশন উঠে যাওয়ায় স্বস্তিতে রাজ্যসরকারও।

বুধবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরেও পার্শ্ব শিক্ষকদের অনশন নিয়ে জটিলতা অব্যাহতই ছিল। এরপর রাতে পার্শ্বশিক্ষকদের নিয়ে স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় অনশন প্রত্যাহার করে নেবেন আন্দোলনকারীরা। সেইমতো বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে অনশন প্রত্যাহার করেন পার্শ্ব শিক্ষকরা। আন্দোলন প্রত্যাহারের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এক আন্দোলনকারী জানান, সরকারের সঙ্গে কিছু বিষয়ে আমাদের ভুল বোঝাবুঝি ছিল। সেটা সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছেন উনি(পার্থ চট্টোপাধ্যায়)। তাছাড়া আমাদের যে সমস্ত দাবি দাওয়া ছিল, যেমন বাতন পরিকাঠামো, স্থায়ীকরণ এই বিষয়গুলির সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তবে কিছুটা সময় চেয়েছেন উনি। সে সময় আমরা দিতে রাজি হয়েছি। যার ফলেই এই অনশন প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে।

পার্শ্বশিক্ষক ঐক্য মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক মধুমিতা বন্দোপাধ্যায় বলেন, “বুধবার শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী দাবি-দাওয়ার বেশিরভাগটাই সমর্থন করেছেন। তিনি সরকারি সিলমোহর দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছেন। আমরা সরকারকে সেই সময় দিতে রাজি হয়েছি। তবে আন্দোলন সাময়িক প্রত্যাহার হয়েছে। সরকার যদি দাবি-দাওয়া না মেনে নেয় তাহলে আরও বৃহত্তর আন্দোলন হবে। মুখ্যমন্ত্রী ফিরে এলে তার সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আলাপ-আলোচনা করে সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে আমাদের দাবি দাবা মেনে নেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি প্রকাশ্যেও সেই কথা ঘোষণা করেছেন। সেই কারণে আমরা তাদের উপর আস্থা রাখতে চাই”।

প্রসঙ্গত, বুধবার পার্শ্বশিক্ষকদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পার্শ্বশিক্ষকদের সবকটি সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনায় বসেছিলাম। যারা আন্দোলনে বসে আছেন তাদের সরাসরি বলেছি আপনাদের মঞ্চ থেকে যারা এসে বলছেন যে, কেন্দ্র সরকার টাকা দিয়েছে রাজ্য সরকার সেই টাকা দিচ্ছে না এর কাগজটা দেখান। উলটে আমরা তাদের দেখিয়েছি যে কেন্দ্র সরকার বা এমএইচআরডি কোনও নির্দিষ্ট হেডে স্যালারি বা টিচারদের ভাতা বাবদ নির্দিষ্ট কোন নির্দিষ্ট হেডে টাকা পাঠান না। উল্টে আমরা প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকা তাদের কাছে পাই এবং সেই টাকা তারা এখনো পর্যন্ত আমাদের দেননি।’

পাশাপাশি তিনি আরও জানান, ‘আমাদের সহানুভূতি আছে বলেই শিক্ষকদের প্রতি আমাদের সম্মান আছে বলেই আমরা আমাদের আর্থিক অবস্থা সত্ত্বেও তাদেরকে দেওয়া হয়েছে ৬৮ শতাংশ এবং প্রায় ৭০ পার্সেন্ট এর কাছাকাছি বেতন বৃদ্ধি বলুন বা ভাতা বলুন সেটা করা হয়েছে। আমরা তাদের প্রতি যথেষ্ঠ সহানুভূতিশীল কিন্তু তার মানে এই নয় বছরে বছরে কেউ না কেউ রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাবে আর আমরা দৌড়ে গিয়ে বিক্ষোভ উঠিয়ে বলব তোমাদের দাবিগুলো মেনে নিচ্ছি। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ লক্ষণ নয়। এটাও বলেছি যে স্থায়ীকরণের ব্যাপারটা আমরা বিবেচনা করে দেখব। অন্যান্য বিষয়গুলো আমরা বিবেচনা করব। কিন্তু সেই বিবেচনা করতে গেলে আমাদের দপ্তরে আলোচনার দরকার আছে। অর্থ দপ্তরের সঙ্গে কথা বলবার দরকার আছে এবং মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদন নেওয়ার দরকার আছে। সুতরাং আমরা দিতে পারব এই ধরনের কোনো প্রতিশ্রুতি আমরা দিতে পারি না। আপনাদের অনশন অবস্থান প্রত্যাহার করুন ‘। শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মতো রাজ্যকে স্বস্তি দিয়ে অনশন তুলে নিলেন পার্শ্বশিক্ষকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here